নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কর্তৃক চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও ৪৯তম (বিশেষ) বিসিএসের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন থেকে সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই ৫৭ জন প্রার্থীকে বাদ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে ৬১১ জন প্রার্থীকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হলেও পিএসসির নির্দেশিত শীর্ষ মেধাবীদের বাদ দেওয়ায় বঞ্চিত প্রার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এই গেজেট থেকে ইতিহাস ও সমাজকল্যাণ বিষয়ে মেধা তালিকায় জাতীয়ভাবে প্রথম স্থান অর্জনকারী প্রার্থীরাও বাদ পড়েছেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯ অনুযায়ী সরকারি নিয়োগলাভে সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আইনগত দায়িত্ব এবং সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী পিএসসির সুপারিশকৃত প্রার্থীর বিষয়ে কোনো অযোগ্যতা না থাকলে তাকে নিয়োগ দিতে হয়। সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রমাণ ছাড়া সুপারিশকৃত মেধাভিত্তিক তালিকা পরিবর্তন করা নজিরবিহীন প্রশাসনিক স্বৈরাচারিতা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) যৌথভাবে ক্যাডার পদে গেজেট প্রকাশ ও বিসিএস পরীক্ষার সার্বিক প্রক্রিয়া পরিচালনা ও তদারকি করে থাকে। বিসিএস ক্যাডারে স্বচ্ছতা রক্ষা ও মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস গঠনে আইনি রূপরেখা বহাল রয়েছে।
চূড়ান্ত গেজেট থেকে রহস্যজনকভাবে বাদ পড়ে ইতিহাস বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী বিসিএস প্রার্থী সোহেল রানা সামাজিক মাধ্যমে জানান, “প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভার জটিল ধাপ পার করে মেধার স্বাক্ষর রাখার পরও আজ আমাদের অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।”
বঞ্চিত প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, অস্পষ্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন ও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও সুশাসন বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে স্বাধীন জনপ্রশাসন ও মেধাবিকাশের অন্তরায় উল্লেখ করে অবিলম্বে বাদ পড়াদের নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
দীর্ঘ ১০ মাস অপেক্ষা করার পর বিসিএস ক্যাডার গেজেটে নাম না দেখে ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা এখন নতুন করে প্রশাসনিক পুনর্বিবেচনার দাবিতে একাট্টা হচ্ছেন।
বঞ্চিত প্রার্থীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে জানিয়েছেন যে, অবিলম্ব গেজেট সংশোধন করা না হলে তাঁরা এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
