নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : রাজধানীর নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার শুনানি শেষে প্রিজনভ্যানে ওঠার সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড হলেও দল না ছাড়ার দৃপ্ত ঘোষণা দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন। বুধবার শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত বহুচ আলোচিত ‘জয় বাংলা ব্রিগেড’ কেন্দ্রিক রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠনের নির্ধারিত শুনানি পরবর্তী তারিখ ১৫ অক্টোবরে পিছিয়ে দেওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবীর উপস্থিতিতে শুনানির নতুন এই দিন ধার্য করেন।
বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) এবং ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির রাষ্ট্রদ্রোহ সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্র কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তবে সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ও অনুচ্ছেদ ৩৮ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক দল গঠন ও আদর্শিক চর্চার সুরক্ষা নিশ্চিত করার আইনি বিধান রয়েছে।
ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এবং ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয় যৌথভাবে ঢাকা জজ কোর্ট প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও চাঞ্চল্যকর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আইনি নথি পর্যালোচনা করছে। আসামিদের নিয়মিত হাজিরা নিশ্চিত করতে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন অনুসরণে বিচার প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রিজনভ্যানের জানালা দিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে সাবেক এমপি তুহিন বলেন, “আমরা কোনো হত্যাকাণ্ড বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত নই, কেবল আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছি। রাজনৈতিক কারণে ফাঁসি হলেও আওয়ামী লীগ থেকে বিচ্যুত হব না।”
শুনানিকালে তুহিনের সঙ্গে থাকা অপর তিন নারী আসামিও নিজেদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে অন্যায্য কারাবাসের প্রতিবাদ জানান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার এনামুল হকের দায়ের করা এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ২৪৬ জন আসামিকে বর্তমানে পলাতক দেখানো হয়েছে।
রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার দীর্ঘায়িত অভিযোগ গঠন ও প্রাঙ্গণে সাবেক দলীয় আইনপ্রণেতার এমন রাজনৈতিক মন্তব্যে উপস্থিত আইনজীবী ও উৎসুক জনতার মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, আগামী ১৫ অক্টোবর নতুন নির্ধারিত দিনে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পুনরায় শুরু হবে।
