নিজস্ব প্রতিবেদক, রাকসু : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, অর্থনৈতিক অসদাচরণ ও নৈতিক পদস্খলনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে চূড়ান্ত বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার রাবি শিবিরের সাবেক এক নেতার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট এবং পরবর্তীতে প্রকাশ্যে আসা শিবিরের তিনটি গোপন চিঠির নথিতে আম্মারের সাথী পদ বাতিল ও বহিষ্কারের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রকাশিত চিঠিসমূহে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্যের অভিযোগে সাথী পদ স্থগিত করা হয় এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়।
বাংলাদেশের প্রচলিত ফৌজদারি দণ্ডবিধি ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংগঠনগুলোর নিয়মাবলী অনুযায়ী অর্থের বিনিময়ে পদ প্রদান, অবৈধ আর্থিক লেনদেন, প্রতারণা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ তছরুপ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ছাত্র সংসদের মতো সংবেদনশীল প্রতিনিধিত্বমূলক পদে অধিষ্ঠিত থেকে রাষ্ট্রবিরোধী ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ মূলক অপরাধে লিপ্ত থাকা কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আওতাভুক্ত।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির যৌথভাবে ক্যাম্পাসের সার্বিক শৃঙ্খলা, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ এবং রাকসু প্রতিনিধিদের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা তদারকি করছে। ক্যাম্পাসে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বহাল রাখা রয়েছে।
২০২৬ সালের ৩১ জুলাই রাবি শিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “সালাউদ্দিন আম্মারের অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেন, মেয়েদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতাকে সরাসরি বিনষ্ট করছে।”
ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান সম্পাদক মেহেদী হাসান চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সালাউদ্দিন আম্মারকে ২০২৫ সালেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নেতা-কর্মীদের রাকসু জিএসের অফলাইন বা অনলাইন কোনো কার্যক্রমে প্রতিক্রিয়া না জানানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের এমন বিস্ফোরক বহিষ্কারাদেশের চিঠি প্রকাশ্যে আসায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
রাবি শাখা ছাত্রশিবির জানিয়েছে, নীতি ও নৈতিকতাহীন কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে বরদাস্ত করা হবে না এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে সংগঠনের দূরতম কোনো সম্পর্ক থাকবে না।
