চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের একটি অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত থাকার অভিযোগে হাসিবুল ইসলাম অপু নামে এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতারা। চাকসুর এসব নেতা ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। আটকের পর ওই শিক্ষার্থীকে রাতভর মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ-পামবাগান সড়কের মোড় এলাকা থেকে অপুকে আটক করা হয়। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চাকসু নেতাদের দাবি, আটকের পর অপুর মুঠোফোন তল্লাশি করে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর মুঠোফোনে ‘জিরো পয়েন্ট, চবি’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ পাওয়া যায়। ওই গ্রুপে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানসহ চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক শতাধিক নেতাকর্মী যুক্ত ছিলেন বলে তাঁরা জানান।
জানা গেছে, ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওয়ালী আসিফ ইনান, চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ার, সাবেক সহসম্পাদক ওয়াহিদুল আলম, সৌমেন দত্ত, পিজুসহ ১৬৫ জন সদস্য ছিলেন। গ্রুপটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হতো বলে দাবি করা হয়েছে।
চাকসুর নেতাদের অভিযোগ, অপু ওই গ্রুপে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসের তথ্য আদান-প্রদান করতেন। নিরাপত্তা দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর মুঠোফোনে চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ারের ভিডিও কলও আসে বলে দাবি করেন তাঁরা।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁইয়া বলেন, সহকারী প্রক্টরের উপস্থিতিতে ওই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি ছাত্রলীগের মিছিল ও কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর মুঠোফোনে থাকা বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণও ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে অপু নিজের বক্তব্যও দিয়েছেন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। তাঁর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে ছাত্রলীগের একটি মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। পরে ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ওয়াহিদুল আলম তাঁকে ছাত্রলীগের কিছু পোস্টার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য দিয়েছিলেন। নিজের ক্ষতি হতে পারে মনে করে তিনি পোস্টারগুলো বিতরণ না করে ফেলে দেন।
অপু আরও বলেন, ওই মিছিলে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে ‘জিরো পয়েন্ট, চবি’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে চবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুল হোসেন বলেন, সন্দেহের ভিত্তিতে ওই শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে তাঁর ফোনে ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ এবং জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্টতার স্বীকারোক্তি পাওয়া গেলে তাঁকে হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবে পুলিশ প্রশাসন।
তবে আটক করার পর ওই শিক্ষার্থীকে রাতভর মারধরের যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
