নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চারটি ট্রাক আটকে চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৬৮০ বস্তা মুরগির বিষ্ঠা (জৈব সার) লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ইতোমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
মঙ্গলবার রাতে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের সোনাপাহাড় এলাকার একটি খালি জায়গায় অভিযান চালিয়ে মজল হক ও মো. শাকিল নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তারসহ সম্পূর্ণ সার উদ্ধার করা হয়।
পণ্য পরিবহন নিরাপত্তা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির সুনির্দিষ্ট আইনি ধারা অনুযায়ী সড়কে মালামাল ডাকাতি ও দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক ও কৃষিপণ্যের নিরবচ্ছিন্ন পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে পুলিশি তদারকি বহাল রাখা আবশ্যক।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ এবং জোরারগঞ্জ থানা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধারকৃত জৈব সার ও গ্রেপ্তারকৃতদের আইনি হেফাজতের বিষয়টি তদারকি করছে। অপরাধের সাথে জড়িত বাকি আসামিদের চিহ্নিত ও দ্রুত গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ বজায় রাখা হয়েছে।
মামলার বাদী ব্যবসায়ী রিপন হোসেন জানান, নাহার এগ্রো ফিড লিমিটেডের নিলামে সারগুলো কিনে ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে আসামিরা করেরহাটে ট্রাকগুলোর গতিপথ রোধ করে লুটপাট চালায়।
ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত করেরহাট ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শাখাওয়াত হোসেন সাখা দাবি করেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত বিষ্ঠা লুটের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা; উল্টো ব্যবসায়ী রিপন নিজ থেকে আমাকে খরচের টাকা দিতেন।”
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, “অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার ও ৬৭ হাজার ২০০ কেজি বিষ্ঠা উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
মালামাল পরিবহনে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজি ও সার ছিনতাইয়ের এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী আইনি অগ্রগতি তদারকি করছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
