নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোণা : নেত্রকোণা শহরের সাতপাই এলাকার এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার কক্ষের ভেতরে এক নারীর সঙ্গে প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হকের অনৈতিক মুহূর্তের ভিডিও ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ করা গত ১১ ও ১৭ আগস্টের ওই অসামাজিক ঘটনার চিত্র মঙ্গলবার উন্মুক্ত হওয়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত প্রভাষক মাওলানা এহসানুল হকের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাঁকে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও নৈতিক আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী পুরো ঘটনাটির প্রশাসনিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে। মাদ্রাসার শিক্ষা পরিবেশ পুনর্গঠন এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থা চালু রেখেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। নিরপেক্ষ প্রতিবেদন দাখিলের পর অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের আদেশ বলবৎ থাকবে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করে সত্যতা পান এবং পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেন।
নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি তদন্ত কমিটি করা হবে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা হবে।
পবিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন নৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা জড়িত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা হওয়ার পর জেলা প্রশাসন ও পরিচালনা পর্ষদ পরবর্তী চূড়ান্ত নির্দেশনামা জারি করবে।
