ফোরটিন ডেস্ক : রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে রানিং কোচ সাজ্জাদ হোসেনকে হাফপ্যান্ট পরার অজুহাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্তৃক দীর্ঘ ৪০ মিনিট অন্যায়ভাবে আটকে রাখার প্রতিবাদে অনন্য এক নাগরিক কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ‘শর্টস পরেই মেট্রোতে উঠি!’ শিরোনামে ফেসবুকে খোলা এই প্রতিবাদী ইভেন্টে ইতোমধ্যেই প্রায় ১ হাজার ৬০০ মানুষ সংহতি প্রকাশ করে সাড়া দিয়েছেন।
শাওন আহমেদ নামের এক নেটিজেনের উদ্যোগে আগামী কর্মসূচির স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনের প্রধান প্রবেশদ্বার এলাকা।
বাংলাদেশের সংবিধান স্বীকৃত চলাচলের স্বাধীনতা এবং গণপরিবহন ব্যবহার বিধিমালা অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট আইনভঙ্গ ছাড়া সাধারণ যাত্রীকে যেকোনো শালীন পোশাকে যাতায়াতে বাধা প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি। পাবলিক ট্রান্সপোর্টে কোনো সুনির্দিষ্ট পোশাক নীতি বা ড্রেস কোড আরোপ করতে হলে তার স্পষ্ট লিখিত প্রশাসনিক নিয়ম থাকা আবশ্যক।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এবং এমআরটি পুলিশ কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার সুষ্ঠু পরিবেশ তদারকি করছে। গণপরিবহনে অহেতুক পুলিশি হয়রানি বন্ধে সাধারণ নাগরিকদের মতামত ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজকরা সাফ জানিয়েছেন, “এটি কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির আয়োজন নয়, বরং অন্যায্য হয়রানি বন্ধের দাবিতে স্পোর্টসওয়্যার পরে আমাদের শান্তিপূর্ণ সুশীল প্রতিক্রিয়া।”
অ্যাথলেট, সাইক্লিস্ট ও সাধারণ দৌড়বিদরা একযোগে ‘সমস্যা শর্টসে নয়, সমস্যা হয়রানিতে!’ শীর্ষক স্লোগান নিয়ে ফার্মগেটে একত্রিত হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
পূর্বে হেনস্তার শিকার ম্যারাথন প্রশিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন ভিডিও প্রকাশ করে লিখিত বিধান না থাকা সত্ত্বেও এমআরটি পুলিশের এমন স্বৈরাচারী মানসিকতার বিরুদ্ধে আইনি প্রশ্ন তুলেছিলেন।
মেট্রোরেলে নির্দিষ্ট ড্রেস কোড না থাকা সত্ত্বেও পুলিশের অযাচিত নীতি-পুলিশগিরির প্রতিবাদে সর্বস্তরের পেশাজীবীদের এই একত্রিত হওয়ার উদ্যোগ পুরো গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
আয়োজকরা নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ অ্যাথলেটরা স্বাভাবিক রানিং ট্রাউজার ও টি-শার্ট পরে ফার্মগেট স্টেশন হয়ে মেট্রোরেলে উঠে তাঁদের প্রতিবাদ প্রদর্শন করবেন।
