নিজস্ব প্রতিবেদক, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের সিংগাইরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা কমিটির এক নেতার দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে নির্মমভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। পূর্বশত্রুতার জেরে গত রবিবার রাতে উপজেলার ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় কৌশলে ডেকে নিয়ে বশির (২১) নামের ওই তরুণকে তাঁরই বন্ধুরা হাতুড়ি, রামদা ও রড দিয়ে কুপিয়ে এই নৃশংস হামলা চালায়।
আহত বশির মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের চক গোবিন্দপুর গ্রামের অধিবাসী এবং জেলা ছাত্রলীগের উপ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক বলে নিশ্চিত করেছেন পরিবার ও সংগঠনটি।
দেশের ফৌজদারি কার্যবিধি ও প্রচলিত দণ্ডবিধির মারাত্মক ধারাসমূহ অনুযায়ী কোনো নাগরিকের অঙ্গহানি করা, ধারালো অস্ত্র দিয়ে রগ কেটে জীবন বিপন্ন করা এবং হত্যাচেষ্টা চালানো কঠোর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নাগরিকদের জীবনের সুরক্ষা প্রদান ও সন্ত্রাসী হামলাকারীদের দ্রুত বিচারে সোপরদের আইনি বাধ্যবাধকতা বলবৎ রয়েছে।
মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ ও সিংগাইর থানা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ডেফলতলী এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নৃশংস হামলার ঘটনাটি নিবিড়ভাবে তদারকি করছে। ঘটনায় সম্পৃক্ত সকল হামলাকারীকে আইনের আওতায় আনতে বিশেষ গোয়েন্দা অভিযান সক্রিয় রাখা হয়েছে।
ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আহত বশিরের বড় ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, “আমার ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কারণে পূর্বশত্রুতার জেরে হামলাকারীরা তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে দিয়েছে।”
ঘটনার পর রক্তাক্ত বশিরকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে আশু চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় বশিরের বাবা বাদী হয়ে চার বন্ধুর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে সিংগাইর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বন্ধুদের হাত ধরেই রাজনৈতিক কর্মীর রগ কাটার এমন বর্বরোচিত ঘটনায় পুরো এলাকা ও সাধারণ নাগরিকদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সিংগাইর থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, আসামিরা ভুক্তভোগীর পরিচিত হওয়ায় মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
