বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানিবাহী কার্গো বিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা দেওয়ার নেপথ্যে মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট আরিফুজ্জামান তুহিন। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নিবন্ধে তিনি দাবি করেন যে, ভূরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হতে না দিতে নানামুখী কূটকৌশল অবলম্বন করছে।
তুহিনের বিশ্লেষণে উঠে আসে যে, আন্তর্জাতিক সামরিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনকারী নতুন দেশগুলোর ওপর মার্কিন পরাশক্তি প্রতিনিয়ত নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পারমাণবিক নিরাপত্তা চুক্তিমালা অনুযায়ী যেকোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌম বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক পরমাণু জ্বালানি পরিবহনে অন্যায্য বাধা প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি। রাষ্ট্রগুলোর আকাশপথ ব্যবহার ও ট্রানজিট অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক অসামরিক বিমান চলাচল নীতিমালা বলবৎ রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের নিয়মানুযায়ী ইউরেনিয়াম পরিবহনের নিরাপদ ট্রানজিট রুট পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়া তদারকি করছে। দেশের বিদ্যুৎ সংকট দূরীকরণে জাতীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ জোরদার রাখা হয়েছে।
কলামিস্ট আরিফুজ্জামান তুহিন তাঁর নিবন্ধে লিখেন, “বাংলাদেশের পরমাণু অর্জনের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব রাজনীতি, যেখানে রাশিয়া নির্মিত রূপপুরকে কার্যকর হতে না দিতে পাকিস্তানকে ব্যবহার করছে মার্কিন প্রশাসন।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ২০২৩ সালে একই আকাশপথে ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান পৌঁছালেও বর্তমানে ভূরাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে দ্বিতীয় চালানের সময় পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
সাংবাদিকদের মতে, চিকিৎসাসেবা, কৃষি ও নিউক্লিয়ার সায়েন্সের অগ্রগতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য মাইলফলক হলেও আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর লড়াইয়ে প্রকল্পটি বারবার হুমকির মুখে পড়ছে।
জাতীয় মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল ও ভূরাজনীতির এমন নোংরা চর্চা নিয়ে দেশের সাধারণ নাগরিক ও বিশেষজ্ঞ মহলে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়া ও আন্তর্জাতিক আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে বিকল্প নিরাপদ রুট ব্যবহার করে রূপপুরের জ্বালানি আনয়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
