ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ কাঙ্ক্ষিত গ্রিন কার্ড হাতে পাওয়ার পর বহু প্রবাসী ধরে নেন মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তবে বাস্তবে স্থায়ী বাসিন্দার (গ্রিন কার্ড) মর্যাদা পেলেই নাগরিকত্ব বা সিটিজেনশিপ শতভাগ নিশ্চিত হয় না। ২০২৬ সালের কার্যকর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, অসচেতনতাবশত করা তিনটি বড় ভুলের কারণে যে কারো ন্যাচারালাইজেশন এন-৪০০ আবেদন বাতিল হতে পারে, এমনকি তৈরি হতে পারে ডিপোটেশনের মতো মারাত্মক আইনি ঝুঁকি।
প্রথম বড় ভুলটি হলো যথাযথ আইনি অনুমোদন ও হিসাব ছাড়া দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করা। সাধারণ নিয়মে ৫ বছর (বা মার্কিন নাগরিকের জীবনসঙ্গী হলে ৩ বছর) যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিকভাবে বসবাসের শর্ত পূরণ করতে হয়। একটানা ৬ মাসের বেশি বা ১ বছরের বেশি বিদেশে অবস্থান করলে ইউএসসিআইএসের চোখে ‘ধারাবাহিক বসবাস’-এর ধারাবাহিকতা ভেঙে যায়। রি-এন্ট্রি পারমিট থাকলেও তা নাগরিকত্বের ধারাবাহিক বসবাসের নিশ্চয়তা দেয় না; এটি কেবল গ্রিন কার্ড বাতিলের ঝুঁকি কমায়।
দ্বিতীয়ত, ট্যাক্স ফাইলে অসামঞ্জস্যতা বা ভুল অবস্থান দেখানো। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের (আইআরএস) নিয়ম অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডধারীরা ‘রেসিডেন্ট এলিয়েন’ হিসেবে গণ্য হন এবং তাদের বিশ্বব্যাপী আয়ের বিবরণ দেওয়া বাধ্যতামূলক। কর ছাড় বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে নিজেকে ‘নন-রেসিডেন্ট’ দেখিয়ে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ধরে নিতে পারে যে আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের স্থায়ী নিবাস হিসেবে বিবেচনা করছেন না।
তৃতীয় এবং সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো ভুলবশত ভোট প্রদান বা ভোটার নিবন্ধন করা। যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারী স্থায়ী বাসিন্দাদের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বা নিজেকে নাগরিক দাবি করার কোনো আইনি অধিকার নেই। অসাবধানতাবশত ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা নিজেকে নাগরিক হিসেবে ঘোষণা করা নাগরিকত্বের আবেদন বাতিলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের আইনি ভিত্তি তৈরি করে।
অতএব, ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে—এন-৪০০ ফর্ম জমা দেওয়ার আগেই বিদেশে অবস্থান, ট্যাক্স রিটার্ন এবং ভোটার নিবন্ধনের হিসেব স্পষ্টভাবে যাচাই করা জরুরি। কোনো ভুল অতীতে হয়ে থাকলে তা গোপন না করে অভিজ্ঞ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
