ফোরটিন ডেস্ক : ভালোবাসার মানুষকে বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি কিডনি কেটে দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের চিকিৎসক রিচার্ড বাতিস্তা। তবে সেই ভালোবাসার উপহারের স্থায়িত্ব ছিল মাত্র চার বছর। স্ত্রী ডনেল বাতিস্তা ডিভোর্সের আবেদন করতেই সম্পর্কের জটিলতা গড়ায় এক অভূতপূর্ব ও নাটকীয় আইনি লড়াইয়ে। স্ত্রীকে দেওয়া নিজের কিডনি ফেরত, নতুবা তার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৫ লাখ মার্কিন ডলার দাবি করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি করেন এই স্বামী।
ঘটনাটি ঘটেছিল নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে। ১৯৯০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতির ঘরে তিনটি সন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভোগা স্ত্রী ডনেলের জীবন বাঁচাতে ২০০১ সালে নিজের একটি কিডনি দান করেন রিচার্ড। তবে সেই আত্মত্যাগের চার বছর পরই ২০০৫ সালে ডিভোর্সের আবেদন করেন ডনেল।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের এক পর্যায়ে রিচার্ড দাবি করেন, বিচ্ছেদ হলে স্ত্রীকে দেওয়া তাঁর কিডনি তাঁকে ফেরত দিতে হবে। অঙ্গ ফেরত দেওয়া অসম্ভব হলে তার মূল্য হিসেবে ১৫ লাখ ডলার বৈবাহিক সম্পত্তি হিসেবে পরিশোধ করতে হবে।
তবে নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টি সুপ্রিম কোর্ট রিচার্ডের এই দাবি সম্পূর্ণ অগ্রহনযোগ্য আখ্যা দিয়ে নাকচ করে দেন। আদালতের রায়ে স্পষ্ট করা হয়, মানবদেহের কোনো অঙ্গ বা টিস্যুকে ডিভোর্সের সময ভাগাভাগি করার মতো বৈবাহিক সম্পত্তি (Marital Property) হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের অঙ্গ বেচাকেনা সম্পূর্ণ বেআইনি হওয়ায় স্বেচ্ছায় দান করা কিডনির কোনো বাজারমূল্য নির্ধারণ করারও সুযোগ নেই।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরাও এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে জানান, প্রতিস্থাপিত অঙ্গ দাতার ব্যক্তিগত ক্ষোভের জেরে অস্ত্রোপচার করে বের করা রোগীর জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ভালোবাসার সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও দান করা অঙ্গ যে আর ফেরতযোগ্য নয়—বাতিস্তা দম্পতির এই বিরল মামলাটি তারই এক ঐতিহাসিক আইনি দৃষ্টান্ত।
