নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় ১৭তম স্থান অর্জন করা সত্ত্বেও কেবল নিজস্ব ‘স্থায়ী বসতভিটা’ না থাকার অজুহাতে নিয়োগপত্র পাননি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সাবেক শিক্ষার্থী মিশন আচার্য।
ঝিনাইদহ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থায়ী ঠিকানা সংক্রান্ত জটিলতা অবসানের জন্য বিষয়টি লিখিতভাবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে (ডিপিই) অবহিত করা হয়েছে।
মিশন আচার্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় মায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯ অনুযায়ী সরকারি নিয়োগলাভে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক এবং বাসস্থান না থাকা কোনো নাগরিকের চাকরি না পাওয়ার আইনি ভিত্তি হতে পারে না। দ্য পাবলিক সার্ভিসেস (রেকর্ড অব সার্ভিসেস) অ্যাক্ট অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নিশ্চিত হলেই সরকারি চাকরির পদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বিধিবিধানের অন্তর্ভুক্ত।
গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) যৌথভাবে এই জেলাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ, পুলিশি তথ্য যাচাই এবং চূড়ান্ত নিয়োগপত্র প্রদান কার্যক্রম সমন্বয় করে থাকে।
তথ্য মতে, ঝিনাইদহ জেলায় ১৮২ জন সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করেন, যার মধ্যে মেধা তালিকায় প্রথম সারিতে থাকা সত্ত্বেও একমাত্র মিশন আচার্যকেই নিয়োগপত্র প্রদান করা থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
মিশন জানান, বাবার ত্যাগের পর মা বাসাবাড়িতে কাজ করে তাঁকে লেখাপড়া করিয়েছেন এবং তাঁর এনআইডি ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদে উক্ত কলাবাগানের ভাড়ার বাসার ঠিকানাই স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
বর্তমানে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে বিষয়টি সমাধানের জন্য তিনি আবেদন জানিয়েছেন।
একজন দিনমজুরের সন্তান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করে পরীক্ষায় কৃতকার্য হওয়ার পরও কেবল নিজস্ব জমি ও বসতভিটা না থাকার কারণে শিক্ষকতার চাকরি আটকে যাওয়ায় দেশজুড়ে শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি মানবিক ও আইনি উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করে অধিদপ্তর থেকে দ্রুত ইতিবাচক সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
