নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : দেশীয় বন্দর শ্রমিকদের তীব্র বিরোধিতা ও ধারাবাহিক প্রতিবাদ উপেক্ষা করে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার খসড়া কনসেশন চুক্তি অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিসিইএর ৩১তম সভায় এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ ও আন্দোলনের রূপরেখা ঠিক করতে শুক্রবার (২ অক্টোবর) জরুরি বৈঠক ডেকেছেন বন্দরের শ্রমিক নেতারা।
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন ২০২২ এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) আইন ২০১৫ অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর অবকাঠামোর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার প্রাথমিক এখতিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) ওপর ন্যস্ত।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি যৌথভাবে এ সংক্রান্ত বৈদেশীক চুক্তি, দরপত্র মূল্যায়ন ও কৌশলগত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর তদারকি পরিচালনা করছে।
এনসিটি হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল, যা একাই বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৫ শতাংশ পরিচালনা করে এবং প্রধান রাজস্ব আয়ে অবদান রাখে।
ইতোপূর্বে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকার উভয় প্রশাসনের সময়ই প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়া হলেও বন্দর শ্রমিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলো জাতীয় সার্বভৌমত্ব, শ্রমিক অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় এর বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান বজায় রেখেছে।
প্রকল্পটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), যারা চুক্তির আইনি কাঠামো ও দরপত্র সংক্রান্ত চূড়ান্ত নথি প্রস্তুত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড এ বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়ে চুক্তির মেয়াদ ১৫ বছরের বদলে ৩০ বছর করার প্রস্তাব পেশ করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
বর্তমানে টার্মিনালটি চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হলেও নতুন হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এর কার্যক্রম চালু রাখবে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদসহ বিভিন্ন অধিকারভিত্তিক সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, রাজস্ব আয়ের সবচেয়ে বড় উৎসে বিদেশি প্রভাব প্রতিষ্ঠা পেলে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় অর্থনীতি ও কৌশলগত ভূরাজনীতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।
বন্দর শ্রমিক নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি প্রদান করে জানিয়েছেন, জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে বিদেশি অপারেটরের কাছে এনসিটি সোপর্দ করার পরিকল্পনা থেকে সরে না আসলে তারা বন্দর অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
