নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : জুলাই আন্দোলনের একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১১ মাস ধরে কারাবন্দি থাকার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন নিষিদ্ধ ঘোষিত পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওরফে মনির খান (৪৮)। মুমূর্ষু অবস্থায় আইসিইউ বেডে শুয়ে থাকা মনির খানের হাতে হাতকড়া পরা একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দেশজুড়ে চরম সমালোচনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন ওঠে।
বুধবার (৫ আগস্ট, ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাইফ সাপোর্টে থাকা মনিরের মৃত্যু হয়। আজ বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
নিহত মিজানুর রহমান মনির পটুয়াখালী সদর উপজেলার বাহালগাছিয়া গ্রামের মরহুম আব্দুল খালেক খানের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যানের পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে মনির খান ও তাঁর স্ত্রী সালমা জাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক রাজনৈতিক মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়। মনির খানের স্ত্রী পটুয়াখালীর কালিকাপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালমা জাহান নিজে তিন মামলায় ছয় মাস কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হন।
স্ত্রী সালমা জাহান মারাত্মক অভিযোগ করে জানান, গত ৯ জুন কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় মনির খান মারাত্মক হৃদরোগ ও মস্তিষ্কের জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল ও নিউরোসাইন্স হাসপাতাল ঘুরে গত ১৪ জুন তাকে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে ভর্তি রেখে লাইফ সাপোর্টে দেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, আইসিইউতে মৃত্যুশয্যায় থাকা সত্ত্বেও তাঁর স্বামীর এক হাত লোহার হাতকড়া দিয়ে বেডের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল। দিনের পর দিন তিনি সংজ্ঞাহীন থাকলেও কারাকর্তৃপক্ষ হাতকড়া খোলেনি। পরবর্তীতে অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে স্বজনদের অনুনয়-বিনয়ে পুলিশ হাতকড়া খুলে দেয়।
আইসিইউতে হাতকড়া পরা অবস্থায় স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলা এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই নেতা মারা যাওয়ার ঘটনাকে চরম অমানবিক হিসেবে বর্ণনা করছেন তাঁর আইনজীবী ও স্বজনেরা। পটুয়াখালীতে তাঁর জানাজা শেষে উপস্থিত সাধারণ মানুষ ও স্বজনদের মাঝে নেমে আসে শোক ও ক্ষোভের ছায়া।
