নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে বিয়ের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একাদশ শ্রেণির এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া মসজিদের ইমাম হুমায়ুন আহমেদকে (৩০) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এই মামলায় জামিন শুনানির সময় আদালত প্রাঙ্গণে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী অংশ নেননি।
বুধবার (৫ আগস্ট, ২০২৬) দুপুরে আসামি হুমায়ুন আহমেদকে বিশ্বম্ভরপুর জোনের আমলগ্রহণকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এমদাদ তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই দিনে ভুক্তভোগী কলেজছাত্রী আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
গ্রেপ্তার হুমায়ুন আহমেদ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের মধুরকান্দি গ্রামের ইছব আলীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতির দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের জেনারেল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (জিআরও) এএসআই ফরিদ আহমেদ জানান, আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। শুনানিকালে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী লড়াই বা অংশগ্রহণ করেননি।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমামতি করার সূত্রে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে হুমায়ুন আহমেদ একাধিকবার তার ওপর নির্যাতন চালান। ধর্ষণের কথা প্রকাশ না করতে চাকুর ভয় দেখান এবং পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে প্রতারণা করেন। ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনাটি জানার পর আদালতের শরণাপন্ন হলে বিচারক বিশ্বম্ভরপুর থানাকে সরাসরি মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাঘবের বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে অভিযুক্ত ইমামের স্বজনদের দাবি, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তারা তদন্তের মাধ্যমে হুমায়ুনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
