মহান বিজয় দিবসকে অপমান করায় জনৈক গুজববাজ পলাতক ইউটিউবারকে উদ্দেশ করে জনাব গোলাম মওলা রনি বলেন- “হারামজাদাটিকে সবাই বিহারী পুত্র বলে থাকে। কিন্তু বিজয়ের মাসে পশুটির কথা শুনলে মনে হয় ওকে টিক্কা খান জন্ম দিয়েছে ।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাকি বীর্যের বিকৃত মুখোভঙ্গির অশ্লীল শব্দ শুনলে মনে হয় ওর জন্মদাতা ইয়াহিয়া খান !”
তাকে অনুসরণ করে বিশিষ্ট সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেন- গোলাম মাওলা রনির একটি স্ট্যাটাস চোখে পড়ল। তিনি একজনকে লক্ষ্য করে লিখেছেন- “হারামজাদাটিকে সবাই বিহারী পুত্র বলে থাকে। কিন্তু বিজয়ের মাসে পশুটির কথা শুনলে মনে হয় তাকে টিক্কা খান জন্ম দিয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে পাকি বীর্যের বিকৃত মুখভঙ্গির অশ্লীল শব্দ শুনলে মনে হয় ওর জন্মদাতা ইয়াহিয়া খান!”
আমার মনে হয়, রনির এই ধারণা সঠিক নয়। ১৯৭১ সালে চার লক্ষেরও বেশি বাঙালি নারী পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে নির্যাতিত হয়েছিলেন- যাদের আমরা বীরাঙ্গনা হিসেবে সম্মান করি, যাদের মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদাও দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু ইতিহাসের আরেকটি বাস্তব দিক আছে। এর বাইরে কিছু বাঙালি নারী স্বেচ্ছায় পাকিস্তানি সেনাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল, এটা ইতিহাসবিদরা উল্লেখ করেছেন। আজ যেসব পলাতক ইউটিউবার বীরাঙ্গনা, মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধ- এসব নিয়ে নোংরা মন্তব্য ছড়ায়, ইতিহাস বিকৃত করে- তাদের অনেকেই সেই সম্পর্কেরই বংশধর।
যারা মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করে, তারা একাত্তরের নাজায়েজ সম্পর্ক, চরিত্রহীনতার ধারক। ইতিহাসের শত্রুরা যতই শব্দ ছুঁড়ে মারুক, জাতির সম্মান তাদের কাছে কখনো হার মানবে না।
এবার মহান বিজয় দিবসকে অপমান করল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিজয় দিবস উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় প্রীকিভোজ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। কিন্তু হল প্রশাসন মহান বিজয় দিবস উল্লেখ না করে শুধুমাত্র ১৬ই ডিসেম্বর উল্লেখ করে। যার ফলে শুরু হয় সমালোচনার। কেউ কেউ বলছে এই বিজয় তো তাদের পরাজয় তাই তারা সেটা মানতে পারছেন না। ইতিপূর্বে জাবি প্রশাসন শেখ হাসিনা হলের নাম পরিবর্তন করে রাখে ফেলানী হল এবং বঙ্গবন্ধু হলের নাম পরিবর্তন করে রাখে জুলাই হল। এই দুই হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ তারেক চৌধুরী এবং শামীমা নাসরিন জলি সাক্ষরিত নোটিশে বিজয় দিবসকে অবমাননা করা হয়।
জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদ বলেন- বাংলাদেশের বিজয় দিবস স্বীকার করতে যাঁদের দ্বিধা, তাঁদের প্রতি কোনো সম্মান দেখানোর প্রশ্নই ওঠে না। এমন মানসিকতা ধারণকারী ব্যক্তি শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। সংশ্লিষ্ট প্রভোস্টকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
