নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধিঃ যুক্তরাষ্ট্রে আটক থাকার পর হ্যান্ডকাফ আর শেকল বদ্ধ অবস্থায় আরও ৩১ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাদের হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে বছরজুড়ে বিভিন্ন ধাপে ২২৬ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে পাঠিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নীতি আরও কঠোর হওয়ায় বাংলাদেশসহ একাধিক দেশের নাগরিককে দ্রুত প্রত্যাবাসন করা হচ্ছে।
ফেরত আসা কর্মীদের জরুরি সহায়তা দেয় ব্র্যাক। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, এই দলের বড় অংশ নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা, বাকি অংশ সিলেট, ফেনী, শরিয়তপুর, কুমিল্লা ও আরও কয়েকটি জেলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পথে যাত্রা করেছিলেন।
ফেরত–আসাদের অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় ৬০ ঘণ্টা তাদের হাত বাঁধা ছিল হ্যান্ডকাফে এবং পায়ে শেকলে। ঢাকায় পৌঁছে এসব সরানো হয়। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, অন্তত সাতজন বৈধ বিএমইটি ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। এরপর সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন। আইনি প্রক্রিয়ার শেষে তাদের ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
শরিফুল হাসান এটিকে অমানবিক আচরণ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ব্রাজিলে কর্মী পাঠানোর নামে যাদের পাঠানো হচ্ছে তাদের অনেকেই সেখান থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার ফাঁদে পড়ছেন। প্রত্যেকে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করেও শেষ পর্যন্ত ফিরছেন শূন্য হাতে। সংশ্লিষ্ট এজেন্সি এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্পের কঠোর নীতির জেরে চলতি বছরই চার্টার্ড ও সামরিক বিমানে একাধিক দফায় বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২৮ নভেম্বর ৩৯ জন, ৮ জুন ৪২ জন এবং মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আরও অন্তত ৩৪ জনকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত পাঠায়।
মার্কিন আইনে বৈধ নথি ছাড়া অবস্থানকারীদের আদালত বা প্রশাসনিক আদেশে প্রত্যাবাসন করা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত প্রত্যাবাসনের কারণে সামরিক ও চার্টার্ড ফ্লাইট ব্যবহারের সংখ্যা বেড়েছে।
