ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একই দিনে সংঘটিত দুই হত্যাকাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনোটিতেই বিচার প্রক্রিয়া এগোয়নি। এক মামলায় তদন্ত শেষ না হওয়ায় আসামিরা জামিনে ক্যাম্পাসে ঘুরছেন, আর অন্যটিতে দায়সারা চার্জশিট দেওয়ায় আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। উভয় মামলাই এখন পিবিআই তদন্ত করছে।
গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাবির ফজলুল হক মুসলিম হলে মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনকে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একই দিনে জাবিতে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা শামীম মোল্লাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। দুই ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা তোলে।
তোফাজ্জল হত্যা: আটজনের নাম বাদ দিয়ে দায়সারা চার্জশিট
শাহবাগ থানার তদন্ত কর্মকর্তা ২১ জনকে অভিযুক্ত করে যে অভিযোগপত্র জমা দেন, তাতে গ্রেপ্তার আসামিদের জবানবন্দিতে উঠে আসা আটজনের নামই বাদ পড়ে। বাদী নারাজি আবেদন করে জানান, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ভিডিও, মর্গে লাশ নেওয়া কনস্টেবলের সাক্ষ্য সবকিছুই উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তাড়াহুড়া করে তদন্ত করা হয়েছে।
আদালত মামলাটি পিবিআই দক্ষিণকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। পিবিআই জানিয়েছে, তারা ডকেট পেয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জন কারাগারে আছেন। বাকি ১৫ জন এখনো পলাতক।
তোফাজ্জলের একমাত্র জীবিত আত্মীয়, মামাতো বোন আসমা আক্তার বলছেন, এক বছরেও তদন্ত শেষ না হওয়া দুঃখজনক; জড়িত কেউ যেন বাদ না যায়।
জাবি হত্যাকাণ্ড: আসামিদের ক্যাম্পাসে অবাধ উপস্থিতি
শামীম মোল্লা হত্যায় জাবি প্রশাসন আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এদের মধ্যে চারজন গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণ করলেও বাকি আসামিরা পলাতক। বহিষ্কারাদেশ শেষ হওয়ায় পাঁচজন আবার ক্যাম্পাসে ফিরেছেন। তাঁদের একজন জাকসুর সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদকও নির্বাচিত হয়েছেন।
পিবিআই ঢাকা জেলা বলছে, হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা তা যাচাই চলছে।
শামীমের ভাই শাহীন মোল্লার অভিযোগ, হত্যার পরও আসামিরা ক্যাম্পাসে ঘুরছে; পুলিশ গ্রেপ্তার করছে না। এক বছরেও তদন্ত শেষ হয়নি, বিচার কবে হবে তা কেউ বলতে পারে না।
