আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ে দুটি গুরুতর সমস্যার কথা উল্লেখ করে একটি বিশ্লেষণধর্মী কলাম লিখেছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। তার মতে, এই বিচার প্রক্রিয়ায় আদালতের নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ব্যর্থতা এবং বিচারকদের প্রমাণের কঠোর যাচাই না করা এই দুই কারণে রায়ের যুক্তিতে ত্রুটি রয়ে গেছে।
দুর্বল আইনি লড়াই ও বিচারিক যুক্তি বার্গম্যান তার কলামে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা প্রসিকিউশনের পেশ করা প্রমাণ নিয়ে সাধারণ প্রশ্নগুলো তুলতেও ব্যর্থ হয়েছেন। তারা ফোনালাপের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ না করে কেবল সেগুলোকে ‘এআই দিয়ে তৈরি’ বলে দাবি করেছেন, যা ছিল একটি দুর্বল কৌশল। অন্যদিকে, আদালত প্রসিকিউশনের ব্যাখ্যাকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেখানে প্রমাণের স্বাধীন ও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
১৪ জুলাইয়ের ফোনালাপ ও ‘রাজাকার’ মন্তব্য বিশ্লেষণে বার্গম্যান ১৪ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে শেখ হাসিনার একটি ফোনালাপের উদহারণ টানেন। ট্রাইব্যুনাল এই ফোনালাপকে ভিত্তি করে রায় দিয়েছে যে, শেখ হাসিনা তখনই ছাত্রদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে বার্গম্যান যুক্তি দেখান, ওই ফোনালাপে শেখ হাসিনা ‘ফাঁসি’ শব্দটি ব্যবহার করলেও তা ছিল বিচারিক প্রক্রিয়ায় শাস্তির কথা (জামায়াত নেতাদের মতো), রাস্তায় বিচারবহির্ভূত হত্যার নির্দেশ নয়।
তার মতে, শেখ হাসিনা ১৮ জুলাই সাবেক মেয়র তাপসের সঙ্গে ফোনালাপে স্পষ্টভাবে ‘লেথাল উইপন’ বা মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা প্রমাণিত। কিন্তু ১৪ জুলাইয়ের ফোনালাপকে ভুল ব্যাখ্যা করে ‘আগে থেকেই হত্যার নির্দেশ ছিল’ এমন দাবি প্রতিষ্ঠা করাটা আইনগতভাবে দুর্বল।
বার্গম্যান মনে করেন, যদি যোগ্য ও অভিজ্ঞ ডিফেন্স আইনজীবী থাকতেন, তবে তারা এই বিষয়গুলো আদালতে তুলে ধরতে পারতেন এবং রায়ের ভিত্তি আরও শক্তিশালী বা ভিন্ন হতে পারত।
(মূল লেখাটি প্রথম আলোতে প্রকাশিত)
