নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাষ্ট্রীয় কোষাগারে টাকার পাহাড় থাকলেও হাসপাতালে টিকার হাহাকার এখন চরমে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক অদক্ষতা এবং হঠকারী সিদ্ধান্তের চড়া মাশুল দিচ্ছে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ৪২ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট অব্যবহৃত পড়ে থাকলেও সময়মতো হামের টিকা সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার। ।
এই নজিরবিহীন উদাসীনতায় দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব এখন মহামারির রূপ ধারণ করার উপক্রম হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দকৃত বিপুল অর্থ থাকা সত্ত্বেও কেন শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকা কেনা সম্ভব হলো না সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। ।
তথ্যমতে, মন্ত্রণালয়ের ফাইলে ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ অলস পড়ে ছিল। কিন্তু স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অদূরদর্শিতায় সেই টাকা সময়মতো কাজে লাগানো হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ইউনিসেফের মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়ায় টিকা কেনা হলেও বর্তমান সরকার খরচ কমানোর অজুহাতে ‘মুক্ত দরপত্র’ পদ্ধতি বেছে নেয়। ।
ইউনিসেফ বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সেই সতর্কবাণী কানে তোলেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় টেন্ডার প্রক্রিয়া সময়মতো শেষ না হওয়ায় দেশে টিকার তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার খেসারত দিচ্ছে এখন দেশের লাখো নিষ্পাপ শিশু। ।
বিশ্বজুড়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন সফল ব্যক্তিত্ব হিসেবে সমাদৃত হলেও, তাঁর সরকারের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার এই কঙ্কালসার চিত্র জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার নিয়মিত তদারকির অভাবে স্বাস্থ্য খাত এখন অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ।
রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সব জায়গায় হামে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। সরকারি পরিসংখ্যানেই মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে টিকার জোগান নিশ্চিত করতে না পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ।
পরিবর্তনের সুফল পাওয়ার বদলে সাধারণ মানুষ এখন সন্তানদের জীবন নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিশুদের জীবন নিয়ে এমন পদ্ধতিগত ‘জুয়া খেলা’র জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি তুলেছেন বিশিষ্ট নাগরিক ও অভিভাবক সমাজ।
