একজন নারী কি কেবলই নারী, মানুষ নন? রাস্তায় চলাচলের সময় নারীর প্রতি অসম্মান ও যৌন হয়রানির ঘটনায় এমনই প্রশ্ন তুলেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নারী শিক্ষক অধ্যাপক ড. জেবউননেছা। বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় এক সিএনজিচালকের কটূক্তির শিকার হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন প্রতিবাদী বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন।
ওই শিক্ষকের বর্ণনা অনুযায়ী, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে যাওয়ার পথে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এ সময় এক সিএনজিচালক তাঁকে উদ্দেশ করে ‘দুর্গা’ বলে কটূক্তি করেন এবং দ্রুত গাড়ি চালিয়ে চলে যান। ঘটনাটি তাঁকে বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ করে।
বিশেষ করে সেদিন তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসের বিষয় ছিল ‘জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’। অর্থাৎ নারীর মর্যাদা, অধিকার, সমতা ও মানবিকতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে যাওয়ার পথেই তাঁকে নারীর প্রতি অবমাননাকর আচরণের শিকার হতে হয়।
নিজের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরে ওই শিক্ষিকা জানান, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত যৌন হয়রানিসংক্রান্ত অভিযোগ কমিটির সভাপতি হিসেবে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় ১৭টি অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
তবে তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। একজন নারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে তাঁকে সম্মান করতে হবে, অথচ একজন সাধারণ নারীকে অসম্মান করা যাবে, এমন মানসিকতা কেন থাকবে? তাঁর মতে, একজন নারীকে সম্মান করার জন্য তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশাগত পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান জানার প্রয়োজন নেই। তিনি একজন মানুষ, আর সেটিই তাঁর সম্মানের জন্য যথেষ্ট।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলা নিজের একটি বক্তব্যও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বলেন, “আমরা পশু নই, পুরুষ নই, আমরা মানুষ।”
সিএনজিচালকের উদ্দেশে ওই শিক্ষক আরও বলেন, দুর্গা শক্তি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক। নারীর পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপ করার আগে নারীর শক্তি ও মর্যাদার ইতিহাস জানা প্রয়োজন।
নিজের অভিজ্ঞতাকে কেবল ব্যক্তিগত অপমান হিসেবে দেখতে নারাজ এই শিক্ষক। বরং প্রতিটি নারীর নিরাপদে রাস্তায় চলাচলের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে ‘SORRY BANGLADESH’ লিখে তিনি সমাজের প্রতি এক গভীর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন—এই সমাজ নারীকে কবে কেবল নারী হিসেবে নয়, একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে শিখবে?
