আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে মার্কিন ভোটাররা কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সবকটি ৪৩৫টি আসন এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে নতুন জনপ্রতিনিধি বেছে নিচ্ছেন। তবে ভোটযুদ্ধের বাইরে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—এই নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি পরাজিত হলে কি ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের পদ ছাড়তে হবে?
সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী এর সরাসরি উত্তর—না। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কোনো প্রেসিডেন্ট পদের ভোট হয় না। ফলে নির্বাচনে নিজের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও ২০২৮ সাল পর্যন্ত চার বছরের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করার পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার ট্রাম্পের থাকবে। তবে হোয়াইট হাউজে নিজের চেয়ার সুরক্ষিত থাকলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে বাকি দুই বছর দেশ পরিচালনা ট্রাম্পের জন্য চরম রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও জনমত জরিপগুলো ট্রাম্প শিবিরের জন্য বড় দুঃসংবাদ দিচ্ছে। দেশটিতে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নানা নীতির ওপর মার্কিন ভোটারদের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ। প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের যেকোনো একটিতে যদি ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়, তবে ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন ও বাজেট পাসের পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে পড়বে। বাজেট অনুমোদন নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিলে নেমে আসতে পারে দীর্ঘমেয়াদি ‘গভর্নমেন্ট শাটডাউন’ বা অচলাবস্থা।
এর পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিগত নীতিগত সিদ্ধান্ত, সরকারি অর্থায়ন ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে শুরু করতে পারবে একের পর এক কঠোর সংসদীয় তদন্ত। এমনকি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) প্রস্তাবও পাস করিয়ে নেওয়া সম্ভব। যদিও প্রেসিডেন্টকে পদচ্যুত করতে সিনেটের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন পড়ে, তবু এমন পদক্ষেপ ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের রাজনৈতিক প্রভাব ও ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে কোণঠাসা করবে। সব মিলিয়ে, পরাজয়ে ক্ষমতা হারাচ্ছেন না ট্রাম্প, তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল তাঁর বাকি দুই বছরের শাসন পরিচালনার গতিপথ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
সূত্রঃ এন টিভি
