আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর গণরায় দিয়েছে দেশটির সাধারণ ভোটাররা। নির্বাচনের আগে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস থাকলেও গণনা শেষে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণই নিজেদের কব্জায় নিয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি।
জীবনযাত্রার লাগামহীন ব্যয়, তীব্র মূল্যস্ফীতি এবং ইরানের সঙ্গে অনভিপ্রেত যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট জনরোষের কারণে রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্তিশালী ঘাঁটিগুলোতেও বড় ধরনের ধস নেমেছে।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, সিনেটে নিজেদের দীর্ঘদিনের আধিপত্য হারিয়ে বড় ব্যবধানে ধরাশায়ী হয়েছে রিপাবলিকান পার্টি। ডেমোক্র্যাটরা প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেরিয়ে সুবিধাজনক ব্যবধানে আসন নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যেও সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে মার্কিন আইনসভার ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ডেমোক্র্যাটিক দল।
ডেমোক্র্যাটদের এই জোয়ারে ক্যানসাস ও টেক্সাসের মতো রক্ষণশীল দুর্গেও কয়েক দশকের রেকর্ড ভেঙে ঐতিহাসিক অঘটন ঘটেছে। পাশাপাশি জর্জিয়ায় কিশা ল্যান্স বটমস দেশটির প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন। নির্বাচন পরবর্তী বুথফেরত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ মার্কিন ভোটার হোয়াইট হাউসের একচ্ছত্র ক্ষমতার লাগাম টানতে কংগ্রেসে কঠোর ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ বা ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
এদিকে দলীয় প্রার্থীদের এই ব্যাপক বিপর্যয়ের খবরে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলাফল ঘোষণার সময় রক্ষণশীল গণমাধ্যম ফক্স নিউজের কভারেজ ও বুথফেরত জরিপ নিয়ে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নিজে সরাসরি ব্যালট পেপারে প্রার্থী হিসেবে না থাকায় রিপাবলিকান দল এই বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তবে প্রাথমিক উত্তেজনা কাটিয়ে পরবর্তীতে বাস্তব চিত্র মেনে নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয়ে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল তিনি সম্পূর্ণ মেনে নিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিবাসন ও অর্থনীতিসহ জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারণী বিষয়ে বিরোধীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্টের মেয়াদের বাকি দুই বছর কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বিরোধীদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন আইন পাস, বাজেট অনুমোদন ও মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নজিরবিহীন বাধার মুখে পড়বে এবং ওয়াশিংটনে বড় ধরনের নীতিগত অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি
