ফোরটিন ডেস্ক : মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে সাভারের হেমায়েতপুরে পোশাকশ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। তবে সাভারে উত্তেজনা থাকলেও গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হতে শুরু করেছে। সেখানে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে মোতায়েন করা হয়েছে ১৩ প্লাটুন বিজিবি এবং দায়িত্ব পালন করছেন ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হেমায়েতপুর-সিংগাইর সড়কের পদ্মার মোড় এলাকায় বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিক জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালান। পুলিশ তাদের সড়ক থেকে সরে যেতে বললে একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আল-মুসলিম গ্রুপসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার সামনে শ্রমিকদের বিক্ষোভ চলায় এলাকাটিতে এখনো থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
অন্যদিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি আজ অনেকটাই স্বাভাবিক রয়েছে। নরসিংহপুর, জিরাবো ও মণ্ডলাপাড়া এলাকার খোলা কারখানাগুলোতে শ্রমিকেরা সকাল থেকেই শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে জলকামানসহ এপিবিএন, জেলা পুলিশ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তবে পূর্বের পরিস্থিতির কারণে কিছু কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
একই সময়ে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত ও শান্ত। সংঘাত এড়াতে মহাসড়কসংলগ্ন বেশ কয়েকটি কারখানায় দুই দিনের ছুটি দেওয়া হলেও খোলা কারখানাগুলোতে নির্বিঘ্নে কাজ চলছে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সড়ক যোগাযোগ সচল রাখতে এবং জানমালের নিরাপত্তায় বিজিবির পাশাপাশি ২৫ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ পোশাকশ্রমিকদের জীবিকার দাবির আড়ালে সুযোগসন্ধানী তৃতীয় কোনো পক্ষ সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে।
