নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার : ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক পুরোপুরি অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সাভার-হেমায়েতপুর এলাকার অন্তত ১০টি তৈরি পোশাক কারখানার হাজার হাজার শ্রমিক। বুধবার সকাল থেকেই মহাসড়কের উভয় লেন বন্ধ করে অবস্থান নেওয়ায় রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সাভার ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সড়কের দুই পাশে শত শত দূরপাল্লার বাস ও সাধারণ যানবাহন আটকে পড়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়; নিরুপায় হয়ে বয়োবৃদ্ধ ও পথচারীদের মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান লাগামহীন বাজারদরে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদেই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। আন্দোলনরত শ্রমিকেরা জানান, বর্তমানে যে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা মজুরি দেওয়া হয়, তা দিয়ে জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একটি সাধারণ কক্ষের ভাড়াই গুণতে হচ্ছে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। তার ওপর চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপণ্যের চড়া দাম এবং গ্যাস সিলিন্ডারের অতিরিক্ত খরচের কারণে প্রতি মাসে ন্যূনতম ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়। মাস শেষে এই টানাপোড়েনের কারণে গ্রামে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরণপোষণের টাকা পাঠানো তো দূরের কথা, নিজের সন্তানদের লেখাপড়া ও খাবারের খরচ জোগাড় করাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্দোলনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের অনুপ্রবেশ বা নাশকতার সুযোগ যাতে তৈরি না হয়, সে বিষয়ে এবার সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন শ্রমিকেরা। বহিরাগত উসকানিদাতা ঠেকাতে প্রত্যেকে নিজ নিজ কারখানার পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) গলায় ঝুলিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছেন। দীর্ঘ সময় মহাসড়ক আটকে রাখার পাশাপাশি ক্লান্তি কাটাতে আন্দোলনস্থলে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ‘জুতা চোর’ খেলাসহ নানা প্রতীকী আনন্দ-উৎসবে মেতে ওঠেন তরুণ শ্রমিকেরা। তবে কঠোর অবরোধের মধ্যেও মানবিক দিক বিবেচনায় অ্যাম্বুলেন্স, রোগী বহনকারী জরুরি যানবাহন ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাস নিরাপদে পার করে দেন তাঁরা।
আন্দোলনস্থলে একপাশে পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সতর্ক অবস্থানে থাকলেও শ্রমিকদের বিপুল উপস্থিতির কারণে তারা বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকেন। শ্রমিকনেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায্য ও সম্মানজনক বেতন বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
