নিজস্ব প্রতিবেদক
নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত নিজের ছেলের বিরুদ্ধে মামলা চলার মধ্যে নিহতের পরিবারকে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ। শাকিলের জানাজার আগে তাঁর এই ঘোষণা ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়। উপস্থিত নেতাকর্মীদের একাংশ তাঁকে উদ্দেশ করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে হস্তক্ষেপ করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোরের বিএনপি নেতা এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর শহরের বিলচলন শহীদ শামসুজ্জোহা কলেজ মাঠে শাকিলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর বিরুদ্ধে শাকিলকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় মিন্টুকে গ্রেপ্তার করে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
জানাজার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্দুল আজিজকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তিনি নিহতের পরিবারকে ব্যক্তিগতভাবে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেন। তাতেও পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হয়নি। একপর্যায়ে হুইপ দুলু মাইক হাতে নিয়ে উপস্থিত লোকজনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
২০ লাখ টাকা দেওয়ার ঘোষণা ঘিরে ক্ষোভের পাশাপাশি হত্যার অভিযোগের বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নিহতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া এক বিষয়, আর হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা আরেক বিষয়। অর্থ দেওয়ার ঘোষণা যেন বিচারপ্রক্রিয়ার বিকল্প হিসেবে বিবেচিত না হয়, সে বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু
গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় বাজার এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন শাকিল। হামলাকারীরা প্রথমে তাঁকে গুলি করে, পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বলে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শাকিলকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
শাকিলের মৃত্যুর পর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাঁরা মিন্টুকে গ্রেপ্তার এবং নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। পরে পুলিশ মিন্টুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
তিন দিনের রিমান্ডে এমপিপুত্র
শাকিলের বাবা রবিউল করিম ১৯ অক্টোবর গুরুদাসপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা আট থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়। পরে শাকিলের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
মঙ্গলবার মিন্টুকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেছেন, তাঁর ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রমাণিত হলে তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
