নিজস্ব প্রতিবেদক
বগুড়ার শিবগঞ্জে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারীকে বহনকারী সরকারি গাড়ির চাপায় নিহত গৃহবধূ ফিরোজা বেগমের পরিবারকে ৫ লাখ টাকার অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এই অর্থ নিহতের পরিবারের হাতে তুলে দেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে ক্ষমতার দাপটে মর্মান্তিক এ প্রাণহানির পর সরকারি কোষাগারের টাকা দিয়ে দায় সারণোর এ ঘটনাকে ‘জুতা মেরে গরু দান’ বলে আখ্যা দিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকরা।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর জয়পুরহাটগামী প্রতিমন্ত্রীর গাড়ি ও বেপরোয়া চলাচলের কারণে গোপীনাথপুর এলাকায় মহাসড়ক পারাপারের সময় ফিরোজা বেগম গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীও সামান্য আহত হন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় ও সচেতন মহলের মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে এক নিরীহ নারীকে পিষে মারার পর এখন সরকারি তহবিলের টাকা ছিটিয়ে নিজেদের অপরাধ ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। চালক ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা বা ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহি না করে সরকারি কোষাগারের অর্থে এই লোকদেখানো সাহায্য প্রদানকে নিহত পরিবারের প্রতি চরম উপহাস এবং অন্যায়ের শামিল বলে মনে করছেন তারা।
চেক হস্তান্তরের সময় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকলেও, ক্ষমতার বলয়ে বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি এবং সরকারি অর্থের এমন ব্যবহারে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে।
