ফোরটিন ডেস্ক : ক্ষমতায় আসার মাত্র সাত মাসের মাথায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যের ইন্ধনে রাজধানীর মিরপুরে দরিদ্র মা ও শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী একটি ঐতিহ্যবাহী স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাতের আঁধারে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মিরপুর ১ নম্বরের ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ সংঘটিত এই তাণ্ডবে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ভ্যাকসিন লুটের ঘটনায় চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়া বিএনপি সরকারের স্বল্প মেয়াদেই ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাদের ইন্ধনে খাসজমি ও সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা দখলের হিড়িক শুরু হয়েছে।
দেশের দেওয়ানি সংক্রান্ত সম্পত্তি রক্ষা আইন ও বাংলাদেশ দণ্ডবিধির সুনির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী ব্যক্তিগত বা দাতব্য জনকল্যাণমূলক চিকিৎসাকেন্দ্রে বেআইনি অনুপ্রবেশ, ভাঙচুর ও সরঞ্জাম লুটপাট করা চরম শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জনস্বার্থে পরিচালিত চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বিধানে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর আইনি তদারকি জারি রাখা বাধ্যতামূলক।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে প্রান্তিক অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসা কার্যক্রম তদারকি করে আসছে। সুবিধাবঞ্চিত প্রসূতি ও শিশুদের জরুরি ওষুধ ও টিকাদান কর্মসূচি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রশাসনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার রাখা রয়েছে।
অভিযোগের তির থাকা সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ও নগর বিএনপির নেতাদের অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।
জনপ্রতিনিধিদের এমন দখলবাজি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বলেন, “যাঁরা জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁরাই যদি সুবিধাবঞ্চিত প্রসূতি ও শিশুদের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র ধ্বংস করেন, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
অনুসন্ধানে জানা যায়, পল্লবীসহ ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় একইভাবে জমি দখলের সংগঠিত অপচেষ্টা চালিয়েছে ক্ষমতার দাপট দেখানো কতিপয় সুবিধাভোগী রাজনৈতিক গোষ্ঠী।
তবে সরকারি দল বিএনপির অভিযুক্ত সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি কিংবা বিএনপির নীতিপ্রণেতাদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে পৃথক কোনো দাপ্তরিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। [DETAIL NEEDED: রাড্ডা চিকিৎসাকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া ও জবরদখলের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য কিংবা বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি]।
ক্ষমতার ছত্রছায়ায় জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের এহেন হিংস্র চেষ্টা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের মৌলিক চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অধিকারকে মারাত্মক হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
প্রশাসনের নীরবতা ভাঙার দাবি জানিয়ে সচেতন মহল অবিলম্বে ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী এমপি ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন।
