নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপকভাবে দলীয়করণ এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের বাহানায় মেধা বঞ্চিত করার তীব্র অভিযোগ এনে রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী প্লাকার্ড ও লালকার্ড প্রদর্শন করে দ্রুত স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতের তাগিদ জানান।
সরকারি চাকরির নিয়োগ বিধিমালা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন নীতিমালার সুনির্দিষ্ট শর্তাবলী মেনে কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণার সুস্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সরকারি কোনো পদে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে অন্যায় হস্তক্ষেপ না করার আইনি নীতি বহাল রাখা আবশ্যক।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যৌথভাবে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালনা করছে। ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা অন্যায্য বাদ পড়ার ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান ফেরদৌস সতর্ক করে বলেন, “অবাধ হস্তক্ষেপ চলতে থাকলে এক বছরের মধ্যে দেশে আবারও নতুন গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হবে।”
সংগঠনটির ঢাবি সভাপতি হাসিব আল ইসলাম সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “তারেক রহমান ক্ষমতার পদে বসে বিএনপি নেতাকর্মী হওয়ায় অযোগ্যদের নিয়োগ দিচ্ছেন যা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।”
তিনি জোর দিয়ে আরও বলেন যে, পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে বাদ পড়া মেধাবীদের অবিলম্বে তাদের প্রাপ্য চাকরি বুঝিয়ে দিতে হবে।
স্বৈরাচার পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় পদগুলোতে দলীয় লোক বসানোর এহেন চর্চা অবিলম্বে বন্ধ না হলে নতুন আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ছাত্রসমাজ।
নিয়োগ বঞ্চিত প্রার্থীদের রিট ও প্রতিবাদের পর পুলিশ ভেরিফিকেশনের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফেরাতে শিক্ষা প্রশাসন কী ভূমিকা নেয়, সেদিকেই সবার দৃষ্টি।
