ফোরটিন ডেস্ক : গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা এবং পরীক্ষা ও ফলাফল নিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম অন্যান্য বিভাগের তুলনায় ভিন্ন। একটি ব্যাচে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০ ঘণ্টা সেশনাল, ল্যাব ও ডিজাইন স্টুডিও কার্যক্রম চলে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর ডিজাইন প্রকল্প আলাদা হওয়ায় তাদের ব্যক্তিগতভাবে গাইড করতে হয়। এ কারণে প্রতিটি ডিজাইন স্টুডিওতে অন্তত দুজন শিক্ষক প্রয়োজন এবং আটটি ব্যাচের জন্য ন্যূনতম ১৬ জন শিক্ষক প্রয়োজন বলে দাবি তাদের।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিভাগটি ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করলেও শুরুতে পর্যাপ্ত শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব কিংবা ডিজাইন স্টুডিও ছিল না। ২০২২ সালে প্রথমবার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সার্কুলার প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় নিয়োগ হয়নি বলে তারা দাবি করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি তারা মে মাস থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে জানিয়ে আসছেন। ১৬ জুন প্রক্টর এবং ২৬ জুলাই উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরে ২৮ জুলাই আবারও উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। প্রশাসনের আশ্বাসের পর তারা পরীক্ষায় অংশ নেন। ৯ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও পরীক্ষা শেষে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না পাওয়ায় তারা আবারও আন্দোলনে নামেন বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষক সংকটের সমাধানের বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে শিক্ষার্থীরা তাঁর কার্যালয়ে গেলে তাদের সঙ্গে কথা বলতে উপাচার্য অনাগ্রহ প্রকাশ করেন বলে শিক্ষার্থীদের দাবি। এরপর তারা অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন। একপর্যায়ে কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরবর্তীতে কয়েকজন শিক্ষক তাদের ওপর চড়াও হন এবং শারীরিকভাবে আঘাত করে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সময় সেখানে নারী শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
সিসিটিভি ,প্রত্যক্ষ দর্শী ধারণকৃত ভিডিও তে দেখা যায় ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়ো-সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ড. নিয়াজ আল হাসান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষক আকাশ দাশ, এসিসিই বিভাগের ড. কামরুজ্জামান, লোকপ্রশাসন বিভাগের ড. ফ্রামিয়া সুলতানা বিতান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসিবুর রহমান সহ একাধিক শিক্ষক ওই ঘটনায় হামলায় অংশ নেন।ড. ফ্রামিয়া সুলতানা বিতানসহ উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা ও চূড়ান্ত ফলাফল ‘দেখে নেওয়ার’ প্রকাশ্য হুমকি দেন । উল্লেখ্য যে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ড. নিয়াজ আল হাসান সহকারী প্রক্টর পদ থেকে অব্যাহতি নেন।
এ ছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. হাসিবুর রহমান স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
শিক্ষক লাঞ্ছিত করার ঘটনাই অভিযুক্ত দের প্রকাশে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় প্রেস ব্রিফিংয়ে।
শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা কোনো শিক্ষক বা অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে বাধা দিতে চাননি। তাদের আন্দোলনের মূল দাবি ছিল বিভাগের দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকটের স্থায়ী সমাধান।
শিক্ষার্থীরা জানান, শুরুতে ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানানো হলেও পরে অন্তত আটজন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম চালু রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন না আসায় সংকট অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি তাদের।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা আরও জানান, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে ইউজিসি থেকে অগ্রগতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনার পর তারা পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবেন। প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত স্থাপত্য বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করার কথাও জানান তারা।
এ সময় গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। চলমান সংকট নিরসনে তিনি বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে ইউজিসিতে গিয়েছিলেন বলে জানান তারা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা আরও দাবি করেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ইউজিসি থেকে স্থাপত্য বিভাগের জন্য তিনজন স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের এনওসি (No Objection Certificate) দেওয়া হবে।
