ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ভয়াবহতম সন্ত্রাসী হামলা ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকার হিলসাইডে একটি পার্টি হলে ‘বাংলাদেশী আমেরিকান্স ইন নিউইয়র্ক’-এর ব্যানারে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘আমরা কখনো ভুলবো না’ মন্ত্রে উজ্জীবিত এ সমাবেশে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারে আত্মঘাতী হামলার স্মৃতিচারণ করা হয়। একই সঙ্গে ওই হামলার জন্য দায়ী ও মদদদাতাদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করেন উপস্থিত বক্তারা। নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় শুরুতে নীরবতা পালন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
২০০১ সালের ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে সমন্বিত হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয় বিমানটি ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনে আঘাত করে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে বিধ্বস্ত হয়।
স্মরণ সমাবেশে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের অন্যতম ও সঞ্চালক সাংবাদিক শেখ সিরাজ, সাঈদ তারেক এবং অধ্যাপক আজিজুল হক মুন্নাসহ বক্তারা ভয়াবহ ওই হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন ড. মহসিন পাটোয়ারী, কমিউনিটি লিডার ওসমান গনি, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, মূলধারার রাজনীতিক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান, সাংবাদিক মাহমুদ খান তাসের, কমিউনিটি লিডার নারগিস আহমেদ, নাসির খান পল, বিএনপি নেতা শাহজাহান শেখ, কবি সালেহা ইসলাম, মনিউর রহমান জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন, সামছুল মবিন, ফিরোজ আলম ও শাহ আলম দুলালসহ আরও অনেকে।

টুইন টাওয়ারের গুরুত্ব এবং মানবিকতার আলোকে স্মৃতিচারণ করেন আজিজুর রহমান। তিনি সেখানে সিকিউরিটি মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তবে সৌভাগ্যক্রমে ঘটনার দিন বিকেলের শিফটে দায়িত্বে থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রই তাদের দেশ এবং এই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্তদের প্রতিহত করার দায়িত্বও নাগরিকদের। সন্ত্রাসীদের কোনো জাতি, ধর্ম, অঞ্চল বা বর্ণের পরিচয় থাকতে পারে না। তাদের একমাত্র পরিচয় মানবতার দুশমন।

বক্তারা আরও বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। মানবতার বিরুদ্ধে যারা সহিংসতায় জড়িত, তাদের চিহ্নিত ও প্রতিহত করার দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের।
৯/১১ হামলার ২৫ বছর পূর্তিতে আয়োজিত এই স্মরণ সমাবেশে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির প্রতিনিধিরা।
