নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ভয়ংকরতম সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় হিল সাইডে একটি পার্টি হলে ‘বাংলাদেশী আমেরিকান্স ইন নিউইয়র্ক’র ব্যানারে এক শ্রদ্ধাঞ্জলী-স্মরণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ‘আমরা কখনো ভুলবো না’ মন্ত্রে উজ্জীবিত এ সমাবেশে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ট্যুইন টা্ওয়ারে আত্মঘাতি হামলার স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ঐ হামলায় দায়ী ও মদদদাতাদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করা হয়। নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় শুরুতে নিরবতা পালন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ৬ বাংলাদেশীসহ মোট ২৯৭৭ জনের প্রাণ ঝরেছে ১১ সেপেটম্বর মঙ্গলবারের সেই হামলায়। সমাবেশে কম্যুনিটির বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারিরা ছিলেন।
আয়োজকদের অন্যতম এবং সঞ্চালক সাংবাদিক শেখ সিরাজ, সাঈদ তারেক এবং অধ্যাপক আজিজুল হক মুন্নাসহ ভয়ংকর সেই সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ড. মহসিন পাটোয়ারী, কম্যুনিটি লিডার ওসমান গনি, প্রবীন সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, মূলধারার রাজনীতিক এডভোকেট মজিবর রহমান, সাংবাদিক মাহমুদ খান তাসের, কম্যুনিটি লিডার নারগিস আহমেদ, নাসির খান পল, বিএনপি নেতা শাহজাহান শেখ, কবি সালেহা ইসলাম, মনিউর রহমান জাহাঙ্গীর, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম হোসেন, সামছুল মবিন, ফিরোজ আলম, শাহ আলম দুলাল প্রমুখ।
স্মরণ সমাবেশে (বাম থেকে) আজিজুর রহমান, ড. মহসিন পাটোয়ারি, শাহজাহান শেখ, শেখ সিরাজ, আজিজুল হক মুন্না।
ট্যুইন টাওয়ারের গুরুত্ব এবং মানবিকতা আলোকে স্মৃতিচারণ করেন আজিজুর রহমান। উল্লেখ্য, তিনি সেখানকার সিকিউরিটি মনিটরিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তবে সৌভাগ্যক্রমে ঐদিন বিকেলের শিফটে (বেলা ২টা থেকে) থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন।
বক্তারা উল্লেখ করেছেন, এটাই আমাদের দেশ এবং এই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্তদের প্রতিহত করার দায়িত্বও আমাদের। সন্ত্রাসীদের কোন জাতি, ধর্ম, অঞ্চল অথবা বর্নের পরিচয় থাকতে পারে। ওদের পরিচয় একটাই এবং তা হচ্ছে মানবতার দুশমন। ঐ দুশমনদের চিহ্নিত এবং নির্মূলের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের। এজন্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্মরণসভা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিহতদের স্মরণ করা হয়েছে। নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভানিয়ায় হামলার তিনটি প্রধান স্থানে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যেও পালিত হয়েছে দিনটি। একই দিনে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সদ্য অবমুক্ত করা গোয়েন্দা নথি প্রকাশ পাওয়ায় হামলার আগে ওসামা বিন লাদেন ও আল-কায়েদার তৎপরতা সম্পর্কে মার্কিন কর্মকর্তারা কী জানতেন, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০০১ সালের ওই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন। আল-কায়েদার ১৯ সদস্য চারটি বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে সমন্বিত হামলা চালায়। দুটি বিমান নিউইয়র্কের বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে আঘাত হানে। তৃতীয় বিমানটি ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অবস্থিত পেন্টাগনে আছড়ে পড়ে। চতুর্থ বিমান ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ৯৩ পেনসিলভানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলের কাছে বিধ্বস্ত হয়। যাত্রীরা বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করার পরই এটি মাটিতে পড়ে।
২৫ বছর পরও অব্যাহত পর্যালোচনা
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২৫ বছর পরও যুক্তরাষ্ট্রে ওই দিনের ঘটনা এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। সিআইএর নতুন নথি হামলার আগে বিন লাদেন ও আল-কায়েদার তৎপরতা সম্পর্কে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে থাকা তথ্যের আরও কিছু বিবরণ সামনে এনেছে। নিউইয়র্কে প্রকাশিত সরকারি নথি হামলার পর বিষাক্ত ধূলিকণা ও বায়ুর মান নিয়ে সরকারি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ৯/১১-পরবর্তী সামরিক অভিযান, জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক এখনো শেষ হয়নি। শুক্রবারের স্মরণ কর্মসূচিতে এসব বিতর্কের পাশাপাশি মূল গুরুত্ব ছিল প্রায় ৩ হাজার নিহত মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।
২৫ বছর পরও ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বেদনাদায়ক দিন হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন নথি, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য এবং হামলার পরবর্তী নীতিগত সিদ্ধান্তের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে সেই দিনের ঘটনাগুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ও জনপর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
Comments
