ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য প্রিন্ট’-এ প্রকাশিত এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাক্ষাৎকারে তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে উন্মুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে জনমত যাচাইয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে দেশের বর্তমান সার্বিক অবস্থাকে ‘জাতীয় সংকট’ আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশে স্থায়ী শান্তি বা স্থিতিশীলতা আনা অসম্ভব।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তন প্রসঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ভারতে আসার কোনো আগাম পরিকল্পনা তাঁর ছিল না; কেবল দেশে বড় ধরনের রক্তপাত ও সংঘাত এড়াতেই সেদিন তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। তবে দেশে সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবক্ষয়, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান এবং সংখ্যালঘু ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “দেশকে এভাবে অনিশ্চয়তা, হিংসা ও অস্থিরতার মুখে ফেলে রাখা যায় না। সে কারণেই আমি দেশে ফিরে আসার পূর্ণ প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আসা মৃত্যুদণ্ডের আদেশকে ‘ক্যাঙ্গারু ট্রায়াল’ ও রাজনৈতিক ক্যাচফেজ হিসেবে অভিহিত করে তিনি জানান, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়া অনুপস্থিতিতে দেওয়া এই রায়কে আইনগতভাবে মোকাবিলা করতেই তিনি দেশে ফিরবেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ড. ইউনূসকে শুধুই কারো ‘পুতুল’ বলা ভুল হবে, বরং তিনি একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্রকল্পের সরাসরি সুবিধাভোগী ও সক্রিয় অংশীদার। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া অহিংস আন্দোলনকে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ দেওয়া হয়েছিল। এই সহিংসতার পেছনে কারা অর্থ ও পরিকল্পনা জুগিয়েছে, তা উন্মোচনে একটি নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনকে ‘একপক্ষীয় নাটক’ হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি যদি সত্যিই নিজেদের ব্যাপক জনপ্রিয় বলে দাবি করে, তবে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দিক এবং একটি গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে দেখুক। সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র জনগণের হাতেই থাকা উচিত।”
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দিল্লির সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোনো একতরফা বিষয় নয়, এটি বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থেই অপরিহার্য। দুই প্রতিবেশী দেশকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে সীমান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য টিকিয়ে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
