ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে নতুন অভিবাসীদের উপস্থিতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশটির সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মানচিত্রে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। শহর কিংবা শহরতলিগুলোতে চার্চ ও পুরোনো ভবনের স্থানে এখন ব্যাপকভাবে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে নতুন নতুন মসজিদ, ইসলামিক স্কুল, হিন্দু মন্দির এবং বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটি সেন্টার। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার এবং যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, বিদেশি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর ব্যাপক অভিবাসনের ফলেই এই সামাজিক বৈচিত্র্য বহুলাংশে রূপ লাভ করেছে।
পিউ রিসার্চের ২০২৩-২৪ সালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্মগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ৮৭ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধর্মের সাথে যুক্ত। বিশেষ করে মার্কিন ভূখণ্ডে বসবাসকারী ৫৯ শতাংশ মুসলিম এবং ৭৭ শতাংশ হিন্দু জনগোষ্ঠী অন্য দেশ থেকে আসা অভিবাসী। এক দশকে কেবল মসজিদের সংখ্যাই ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছিল ২ হাজার ৭৬৯টিতে, এবং বর্তমানে বেসরকারি তথ্যভান্ডারে ৫০টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ১ হাজার ২৫৬টি হিন্দু মন্দির ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের তালিকা পাওয়া যাচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি পুরোনো স্থাবর সম্পত্তি বা বন্ধ হয়ে যাওয়া চার্চ কিনে রূপান্তরের প্রবণতাও এখন মার্কিন শহরগুলোতে বহুল দেখা যাচ্ছে।
গবেষকরা জানান, এসকল উপাসনালয় এখন আর শুধু প্রার্থনার নির্দিষ্ট স্থানে সীমাবদ্ধ নেই। নতুন অভিবাসী পরিবারের শিশুদের ভাষা ও ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক মেলবন্ধন এবং ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রধান আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে এসব প্রতিষ্ঠান। মার্কিন সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বহিরাগতদের নতুন সংস্কৃতির এই সংযোগ আমেরিকার সামাজিক জীবনকে দিনে দিনে আরও সমৃদ্ধ ও বহুধা বিভক্ত ঐতিহ্যবাহী রূপ প্রদান করছে।
