ফোরটিন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত যুদ্ধ ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রত্যক্ষ প্রভাবে চরম অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও কাঁচামালের সংকট তীব্র হলে দেশে প্রায় ৬ লাখ মানুষ চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। একই সঙ্গে চলতি বছর দারিদ্র্যসীমা থেকে যাদের বেরিয়ে আসার কথা ছিল, তাদের সেই পথ রুদ্ধ হয়ে উল্টো দারিদ্র্য ও বৈষম্য আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্ববাজার থেকে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের উৎপাদনশীল খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাস সংকটে দেশের ছয়টি ইউরিয়া সার কারখানার পাঁচটিই বন্ধ রাখতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় ভর্তুকির চাপ ঠেকেছে ৩ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে। এর ফলে সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানোর আশঙ্কায় তীব্র চাপে পড়বেন সাধারণ প্রান্তিক খামার ও মধ্যবিত্তরা।
অর্থনীতির এই টানাপোড়েন নিয়ে অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পূর্ববর্তী সরকারের অনিয়ম রাতারাতি ঠিক করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন, কারখানা বন্ধ হওয়া ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের যে আশঙ্কা বিশ্বব্যাংক দেখিয়েছে, তার বাস্তব রূপ ইতিমধ্যেই দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
