ফোরটিন ডেস্ক : বাংলাদেশের সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে গিয়ে চরম নিরাপত্তাঙ্ক ও নেতিবাচক পরিণতির ভয়ে ভুগছেন। সম্ভাব্য অনলাইন আক্রমণ, পারিবারিক হুমকি কিংবা আইনি জটিলতার আশঙ্কায় অনেকেই নিজেদের সামাজিক মাধ্যমে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ডেটা জার্নালিজম নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ‘ডেটাফুল’-এর পরিচালিত ‘এক্সপ্রেশন পালস’ শীর্ষক এক বিশেষ জরিপে এই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১০ থেকে ২৫ আগস্ট পরিচালিত এই জরিপে সাংবাদিকদের গত ছয় মাসের ডিজিটাল মত প্রকাশের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ সাংবাদিকই জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনলাইনে মতামত দেওয়া থেকে বিরত থেকেছেন। বিশেষ করে অন্য কোনো সহকর্মী বা সাংবাদিক যদি অনলাইনে ট্রলিং, তথ্য ফাঁস বা হয়রানির শিকার হন, তবে তার প্রভাব বাকিদের ওপর তীব্রভাবে পড়ছে, যা সুশীল সমাজের ভাষায় ‘চিলিং ইফেক্ট’ নামে পরিচিত। সহকর্মীর হেনস্তা দেখে প্রায় সব সাংবাদিকই নিজেদের মতামত জানানোর ঝুঁকি থেকে সরে আসছেন।
জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে, রাজনীতি, সরকারের সমালোচনা, ধর্ম, আইনশৃঙ্খলা, এমনকি ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও সাংবাদিকরা কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। ৬ মাস আগের তুলনায় এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশে অস্বস্তি বেড়েছে বহুলাংশে। অনলাইন ভীতি এখন তাদের অফলাইন জীবনেও প্রভাব ফেলছে—পেশাগত অনিশ্চয়তা, শারীরিক আক্রমণ এবং পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বহু সংবাদকর্মী এখন নিজস্ব মতামত চেপে যাচ্ছেন বা চরম স্বনিয়ন্ত্রণ (সেলফ-সেন্সরশিপ) চর্চা করছেন।

