ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে যৌন অভিমুখিতা বা এলজিবিটি (LGB) পরিচয়ের কারণে নিজ দেশে নিপীড়নের আশঙ্কা দেখিয়ে আশ্রয় চাওয়া আবেদনকারীদের তালিকায় পাকিস্তানি নাগরিকদের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস) কর্তৃক প্রকাশিত ২০২৩ সালের বার্ষিক অভিবাসন পরিসংখ্যানে এই তথ্য সামনে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশটিতে মোট ১ হাজার ৩৭৭টি আশ্রয় আবেদনে যৌন অভিমুখিতাকে সুরক্ষার প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ৫৭৮টি আবেদন এসেছে পাকিস্তানি নাগরিকদের কাছ থেকে, যা মোট আবেদনের প্রায় ৪২ শতাংশ। এ তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানেই রয়েছেন বাংলাদেশের নাগরিকরা। বিগত ছয় বছর ধরে সামগ্রিক আশ্রয় আবেদনের তুলনায় সমকামীতা বা এলজিবিটি পরিচয় ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদনের ক্ষেত্রে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি নাগরিকদের এই বিশেষ প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
তবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব পরিসংখ্যান কেবল আবেদনকারীদের লিখিত দাবির ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা কোনো আবেদনকারীর যৌন পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে না। ২০২৩ সালে যৌন অভিমুখিতার ভিত্তিতে নিষ্পত্তিকৃত মোট ৩,৪৩০টি আবেদনের মধ্যে ৬২ শতাংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়েই ব্রিটেনে থাকার অনুমতি বা রাজনৈতিক আশ্রয় মঞ্জুর করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কেবল আইনি সুবিধা ও নাগরিকত্ব পেতে এই কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
