ফোরটিন ডেস্ক : দেশে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু নিখোঁজ ও অপহরণের ঘটনা। পুলিশ সদর দপ্তরের সরকারি হিসেব অনুযায়ী, গত সাত মাসে সারাদেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৫ হাজার শিশু হারিয়ে যাওয়ার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২,১০০ জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার এই নজিরবিহীন পরিসংখ্যান দেশের শিশু নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খেলাধুলার সময় বা প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ ছাড়াও অগোচরে বাস থেকে নেমে গিয়ে শিশু হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। রূপা কিংবা হালিমার মতো অনেক শিশুই বছরের পর বছর আপন ঠিকানায় ফিরতে পারছে না। তবে পুলিশি তৎপরতা ও সামাজিক অ্যালার্ট সিস্টেমের কারণে উদ্ধার পাওয়ার উদাহরণও রয়েছে। পাঁচ বছরের মুসকান ও আট বছরের সাইফকে অপহরণের পর ‘মুন অ্যালার্ট’ (১৬২১৯) ও বিলবোর্ডে তথ্য প্রচারের ভয়ে আসামিরা সদরঘাট এলাকায় শিশুদের রেখে পালাতে বাধ্য হয়। আবার আশ্রমে থাকা নুরুন্নাহার নামের এক শিশু দীর্ঘ আট বছর পর স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সুনির্দিষ্ট তথ্যানুসন্ধানে খুঁজে পেয়েছে তার মা ও স্বজনদের।
বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা বা ‘গোল্ডেন আওয়ার্স’ উদ্ধার অভিযানের জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ও সামাজিক মাধ্যমে নিখোঁজের তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হলে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের জীবিত ও নিরাপদে উদ্ধারের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। থানা পুলিশের পাশাপাশি চাইল্ড ট্র্যাকিং সিস্টেম ও সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
