ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ১৯৮৭ সালের এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সৈয়দ মোহাম্মদ রব্বানীর দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৩ সালে মৃত্যুদণ্ড রদ হলেও কারাগার থেকে তাঁর মুক্তি মিলেনি। বর্তমানে ৬০ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি গুরুতর শারীরিক ও মানসিক অবনতির কারণে ডিকিনসনের ক্যারল ইয়াং ইউনিটে হসপিস সেবা নিচ্ছেন। ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত ‘হিউস্টন ক্রনিকল’-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই প্রবীণ বন্দির চরম করুণ পরিণতির কথা।
১৯৮৭ সালে হিউস্টনের একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ জাকির হাসান। ওই মামলায় ২৪ বছর বয়সী তরুণ রব্বানীকে ক্যাপিটাল মার্ডারে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয় হ্যারিস কাউন্টির আদালত। পরবর্তীতে তাঁর মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে দীর্ঘ ২৮ বছর আইনি প্রক্রিয়া ঝুলে থাকে। অবশেষে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে টেক্সাসের সর্বোচ্চ ফৌজদারি আদালত তাঁর মৃত্যুদণ্ড রদ করে প্যারোলের সুযোগসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
দীর্ঘ তিন দশক পর ২০২৩ সালে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা তাঁর পরিবার জানতে পারে রব্বানী জীবিত আছেন। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে সেবাশুশ্রূষা করার আকুল আবেদন ও চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু আইনি জটিলতা এবং অভিবাসনগত অবস্থানের কারণে সম্প্রতি ২০২৬ সালের জুনে তাঁর চিকিৎসাজনিত প্যারোল আবেদনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
বর্তমানে রব্বানীর দৃষ্টিশক্তি প্রায় বিলুপ্ত, স্ট্রোকের পর চলাফেরা ও কথা বলার সক্ষমতাও হারিয়েছেন। জীবনের তিন দশকেরও বেশি সময় কারাগারের অন্ধকারে কাটানোর পর, মৃত্যুদণ্ড মাথার ওপর না থাকলেও মুক্ত বাতাসের আশা এখন চিরতরে ফিকে হয়ে গেছে। আমেরিকার বিচারিক ইতিহাসে মানসিক ভারসাম্যহীন দীর্ঘদিনের কারাবন্দিদের আইনি সুরক্ষা ও করুণ পরিণতির এক বড় উদাহরণ হয়ে রইলেন এই বাংলাদেশি।
