নিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার অপরাধে স্থানীয় সালিশে ৫০টি বেত্রাঘাত ও জরিমানা গুণার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় আবারও তৃতীয় শ্রেণির এক শিশু ছাত্রীকে (৯) ধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে জামায়াতকর্মী মো. হেলাল উদ্দিন ওরফে হেলাল মাস্টারের (৪২) বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা অপরাধীকে হাতেনাতে ধরে উত্তমমধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ২৩ আগস্ট রবিবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার হরণী ইউনিয়নের আদর্শ গ্রাম বাজারে। অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেলায়েত খলিফার ছেলে। তিনি ওই বাজারে একটি ফার্মেসি পরিচালনার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে সামনের সারিতে সক্রিয় থাকতেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট একই এলাকার ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে দোকানে ডেকে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে এই হেলালের বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতারা ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে ঘটনাটি আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সালিশে তাঁকে নামমাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ৫০টি বেত্রাঘাত করে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আইনের তোয়াক্কা না করে বিচার সালিশে পার পেয়ে যাওয়ার মাত্র ১৯ দিন পর, গত রবিবার সকালে ৯ বছরের আরেক শিশু ছাত্রীকে কৌশলে ফার্মেসির পেছনের অংশে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করেন হেলাল মাস্টার। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানালার ফাঁক দিয়ে ঘটনার ভিডিও ধারণ করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বিক্ষুব্ধ জনতা তাৎক্ষণিক ফার্মেসি ঘেরাও করে লম্পট হেলালকে ধরে ফেলে এবং চেয়ারম্যানঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করে।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, নির্যাতিত শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুটির পরিচয় ও সুরক্ষার স্বার্থে ওই ভিডিও প্রচার না করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
