আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তেহরানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় আর রাষ্ট্রীয় শোকের আবহের মধ্যেও উপস্থিত সবার দৃষ্টি বিশেষভাবে আকর্ষণ করেছে একটি ছোট্ট কফিন। রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের বিশাল ও গম্ভীর আয়োজনের মাঝে রাখা সেই কফিনটি ছিল খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানির মরদেহবাহী। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো এই ছোট্ট কফিনটি যখন অন্য বড় বড় কফিনগুলোর পাশে রাখা হয়, তখন সেখানে উপস্থিত সমবেত হাজারো মানুষ অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এই বিদায়ের ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের সদস্যদেরই একজন। খামেনির ওপর চালানো সেই হামলায় তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও প্রাণ হারান। শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে খামেনির কফিনের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের কফিনও সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছিল, যার ঠিক পাশেই স্থান পায় শিশু জাহরার কফিনটি। কফিনের পাশে রাখা শিশুটির একটি নিষ্পাপ ছবি উপস্থিত জনতাকে আরও বেশি আবেগাপ্লুত করে তোলে।
জানাজা ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় উপস্থিত বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামরিক কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষ নীরবে ও গভীর শ্রদ্ধায় শিশুটির প্রতি তাঁদের শেষ ভালোবাসা জানান। রাষ্ট্রীয় এই মহিমান্বিত আয়োজনের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব যত বড়ই হোক না কেন, ছোট্ট জাহরার কফিনটি মূলত যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মানবিক ক্ষতির এক গভীর ও নির্মম প্রতীক হিসেবে সবার সামনে উন্মোচিত হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এই হৃদয়বিদারক ছবিটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সাধারণ নেটিজেনদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, একটি শিশুর এমন ছোট্ট কফিন মূলত সংঘাত ও যুদ্ধের ভয়াবহ এবং নিষ্ঠুর মানবিক মূল্যকে সবচেয়ে নির্মমভাবে পুরো পৃথিবীর দরবারে স্মরণ করিয়ে দেয়। জাহরার এই আকস্মিক ও অকাল বিদায় তাই কেবল একটি প্রভাবশালী পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের ঘটনা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং বৈশ্বিক সংঘাতের মধ্যে কীভাবে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, তার এক মর্মান্তিক ও জীবন্ত স্মারক হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলে উঠে এসেছে। এই ছোট্ট কফিন যেন বিশ্ববিবেককে আরও একবার কঠোরভাবে মনে করিয়ে দেয়—প্রতিটি শিশুর জীবনই অমূল্য, আর যুদ্ধের সবচেয়ে বড় ও নির্মম মূল্য দিনশেষে কোনো না কোনো নিরপরাধ শিশুই দিয়ে থাকে।
