আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের গৌরবময় ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে আয়োজিত বিশেষ ও ঐতিহ্যবাহী ‘ন্যাচারালাইজেশন’ বা নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাজারো ভাগ্যবানেরা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ ও জটিল অভিবাসন প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব অভিবাসী এখন থেকে গর্বিত মার্কিন নাগরিক হিসেবে নতুন জীবন শুরু করলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসকে ঘিরে নতুন নাগরিকদের এই জমকালো শপথ গ্রহণের আয়োজন দেশটির বহু বছরের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য, যা প্রতি বছর ৪ঠা জুলাই দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) এবং ফেডারেল আদালতের যৌথ ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এসব বিশেষ অনুষ্ঠানে নতুন নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের মূল সংবিধান ও প্রচলিত আইনের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ করেন। এই বিশেষ শপথের মাধ্যমে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন বৈধ নাগরিক হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পাসপোর্ট লাভের চূড়ান্ত যোগ্যতা অর্জন করেন।
প্রতি বছরের মতো এবারও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল দেশটির ঐতিহাসিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও পর্যটন স্থানসমূহ। বিশেষ করে ভার্জিনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষণার অন্যতম রূপকার থমাস জেফারসনের ঐতিহাসিক বাসভবন ‘মন্টিসেলো’ এবং প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন ‘মাউন্ট ভার্নন’-সহ আমেরিকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী স্থানে এই বিশেষ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় এই ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে নতুন নাগরিকদের শপথ গ্রহণ আমেরিকার স্বাধীনতা দিবসের সামগ্রিক উদযাপন ও আবেগপূর্ণ পরিবেশকে আরও বহুগুণ তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ করে তোলে।
অনুষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেডারেল বিচারকরা নতুন নাগরিকদের ‘ওথ অব অ্যালিজিয়েন্স’ বা দেশের প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের মূল শপথ বাক্য পাঠ করান। এই বিশেষ শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের একজন পূর্ণাঙ্গ নাগরিক হিসেবে তাঁদের যাবতীয় সাংবিধানিক অধিকার (যেমন: ভোট প্রদানের অধিকার) এবং নাগরিক দায়িত্বসমূহ আনুষ্ঠানিকভাবে কাঁধে তুলে নেন।
এসব বর্ণিল অনুষ্ঠানে আমেরিকার বিভিন্ন স্বনামধন্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। বিশেষ করে নারীর রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে কাজ করা ‘লিগ অব উইমেন ভোটার্স’-এর মতো প্রভাবশালী সংগঠনগুলো নতুন নাগরিকদের তাৎক্ষণিকভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনে (Voter Registration) সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করে, যাতে তারা নাগরিকত্ব পাওয়ার পরপরই দেশটির আসন্ন নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারেন।
ইউএসসিআইএসের (USCIS) অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে অসংখ্য ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এসব অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীরা নতুন এক আত্মপরিচয়ে আমেরিকার অংশ হয়ে ওঠেন। সংশ্লিষ্ট অভিবাসন সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আগামী বছরগুলোতে এই নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানকে আরও বৃহৎ ও আকর্ষণীয় পরিসরে আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন নীতিনির্ধারকেরা মনে করেন, স্বাধীনতা দিবসের সঙ্গে নতুন নাগরিকদের এই মেলবন্ধন ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জাতিগত বৈচিত্র্য, অভিবাসী ঐতিহ্য এবং সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও জীবন্ত প্রতীক।
