আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার চলমান প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের প্রভাবশালী সদস্য গ্রেস মেং। তিনি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন যে, কোনো দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় এবং এ ধরনের পদক্ষেপ সংশ্লিষ্ট দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়াদে ‘দুর্বল’ করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক বিশেষ ও একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতি, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাঙালিদের অধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের সুচিন্তিত মতামত তুলে ধরেন ডেমোক্র্যাট পার্টির এই শীর্ষনেত্রী।
নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্স এলাকা থেকে নির্বাচিত এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের ‘কংগ্রেশনাল বাংলাদেশ ককাস’-এর দীর্ঘদিনের সক্রিয় সদস্য গ্রেস মেং বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ প্রসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, “কোনো ব্যক্তি যদি আইন ভঙ্গ করে থাকেন, তবে অবশ্যই তাকে জবাবদিহিতার ও আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনতে হবে। তবে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা উদ্বেগের বিষয় এবং এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করতে পারে।” মার্কিন এই আইনপ্রণেতা আরও যোগ করেন যে, একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতন্ত্রে যেকোনো রাজনৈতিক মতপার্থক্যের চূড়ান্ত সমাধান কেবল রাজনৈতিক এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই হওয়া বাঞ্ছনীয়।
সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে গ্রেস মেং বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে কথা বলে আসছি এবং ক্ষণস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় কে বা কোন দল রয়েছে তার ভিত্তিতে আমার এই নৈতিক অবস্থান কখনো পরিবর্তিত হবে না। মানবাধিকার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়; এটি একটি সার্বজনীন মূল্যবোধ।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যেকোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যাতে পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারে, সেজন্য ওয়াশিংটনে তাঁর পক্ষ থেকে বাংলাদেশে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। একই সাথে বাংলাদেশের ওপর অতীতে আরোপিত মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তাঁর পূর্ববর্তী বিরোধিতার অনড় অবস্থানের কথাও পুনরুল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন রাজনীতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে নিজের নানামুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এই ডেমোক্র্যাট সদস্য জানান, তিনি কংগ্রেশনাল এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাসের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশি আমেরিকানদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে ফেডারেল ছুটির দিন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিল এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের সরকারি স্বীকৃতির জন্য কংগ্রেসে আইন প্রস্তাব করেছেন তিনি। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হালাল খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়ানো, ইসলামোফোবিয়াসহ সব ধরনের ঘৃণাজনিত অপরাধ (Hate Crime) মোকাবিলা এবং মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।
আসন্ন নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচন ও অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপের সমালোচনা করে গ্রেস মেং বলেন, কঠোর পরিশ্রমী ও আইন মেনে চলা মানুষদের মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃক আটক করা মানবিক ও নৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলে আইসের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, নথিপত্রহীন অভিবাসীদের গ্রিনকার্ডের স্থায়ী সমাধান এবং একটি মানবিক ও কার্যকর অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নিউ ইয়র্ক থেকে নির্বাচিত প্রথম এই এশিয়ান-আমেরিকান কংগ্রেস সদস্য।
