চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার আমিলাইশ ইউনিয়নে মধ্যরাতের নীরবতা ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে মুহুর্মুহু গুলির শব্দে। গতকাল ২৯শে জুন, সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পশ্চিম পাড়া সোলতান আহমদের বাড়ি এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে ১০-১২ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের অতর্কিত গুলিবর্ষণে এনায়েত আলী (৫৫) নামে এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বর্তমানে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এই নৃশংস ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বড় ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য লোকমান হাকিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে গ্রামের একটি দোকান থেকে হেঁটে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন এনায়েত আলী। কিন্তু তিনি জানতেন না, বাড়ির ঠিক বাইরেই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ওত পেতে ছিল ১০ থেকে ১২ জনের একটি ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দল। এনায়েত আলী বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছামাত্রই দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছুড়তে শুরু করে। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বিকট আওয়াজে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
এই নৃশংস হামলার পেছনে স্থানীয় বিরোধ ও রাজনীতির স্পষ্ট সংযোগ দেখছেন আহতের পরিবার। গুলিবিদ্ধ এনায়েত আলীর ছোট ভাই লিয়াকত আলী জানান, এলাকায় একটি মসজিদের পরিচালনা ও অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে স্থানীয় কিছু মানুষের সাথে তাঁর ভাইয়ের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর বাইরে রাজনৈতিক কারণেও তিনি প্রতিপক্ষের টার্গেটে ছিলেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “হামলাকারীরা তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই হাতে, পায়ে এবং বুকে নির্বিচারে গুলি করেছে। তাঁরা স্থানীয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী।”
এদিকে ঘটনার খবর পেয়েই রাতেই তৎপরতা শুরু করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান চালায়। সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাসেল মিয়া জানান, পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে মো. রায়হান (২৬) নামে স্থানীয় এক তরুণকে আটক করেছে, যিনি রাজনৈতিকভাবে ছাত্রসংগঠন ‘শিবির’-এর রাজনীতির সাথে জড়িত। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং বাকি অপরাধীদের ধরতে অভিযান চলছে এবং এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এলাকার সাধারণ মানুষ অনতিবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত সকল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
