নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তীব্র গরমের মাঝে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে জনজীবন ও শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত দুই মাস ধরে দিন ও রাত মিলিয়ে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি চরম সীমায় পৌঁছেছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলা এই অবরোধের কারণে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রী ও চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। মহাসড়ক অবরোধের পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলার জামুর্কি এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিস ও সাব-স্টেশন ঘেরাও করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়।
খবর পেয়ে মির্জাপুর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ রাজনৈতিক নেতারাও বিক্ষুব্ধ জনতাকে বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস পেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, দিন-রাতে সিংহভাগ সময়ই বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রায় ১০ হাজার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েছে। এছাড়া আগামী ১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া মাধ্যমিকের অর্ধ-বার্ষিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রায় ৮৩ হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা। প্রচণ্ড গরম আর লোডশেডিংয়ের কারণে কোনোভাবেই পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না খুদে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে শিক্ষক নেতারা পরীক্ষার আগে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী এভাবে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়লে তাদের শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে। তীব্র গরম ও বিদ্যুতের অভাবে শুধু শিক্ষাই নয়, মির্জাপুরের স্থানীয় শিল্পাঞ্চল ও কলকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে।
মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় গ্রিড থেকে উৎপাদন কম থাকায় এবং চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মেগাওয়াট বিদ্যুৎ না পাওয়ায় এই ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ জোন থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না মেলায় প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে গোড়াই এলাকার শিল্পাঞ্চলে বিদ্যুৎ সচল রাখার কারণে আবাসিক এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা কিছুটা বেশি হচ্ছে এবং পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
