নিজস্ব প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার ও জামিন পেলেও মুক্তি পাচ্ছেন না। বারবার নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং উচ্চ আদালতে জামিন স্থগিত হওয়ায় তাঁর মুক্তির প্রক্রিয়া চরম জটিল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ১২টি মামলার জালে বন্দি হয়ে আইনি জটিলতায় তিনি কারাগারেই রয়েছেন। ।
আইভীকে প্রথমে পাঁচটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল, যেগুলোতে অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে যান। সেখানে জামিন পেলেও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের প্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত তা স্থগিত করে দেয়। এর পরপরই আরও পাঁচটি এবং পরবর্তীতে আরও দুটি নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ।
সাবেক এই মেয়রের বিরুদ্ধে দায়ের করা ১২টি মামলার মধ্যে ৯টি হত্যা, দুটি হত্যাচেষ্টা এবং একটি পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার মামলা। তবে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এজাহারভুক্ত ১২টি মামলার মধ্যে অন্তত ৭টিতেই আইভীর নাম সরাসরি উল্লেখ নেই বলে জানা গেছে। গত বছরের ৯ মে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো মামলার তদন্ত শেষ হয়নি। ।
আইভীর আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, একের পর এক নতুন মামলায় তাঁকে জড়ানো এবং পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। তাঁদের দাবি, আইভীকে কারাগার থেকে বের হতে না দেওয়ার জন্যই এই আইনি মারপ্যাঁচ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, নিয়ম অনুযায়ীই সব আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ।
চলমান পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশ দিয়েছে যে, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া আইভীকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো বা হয়রানি করা যাবে না। আইভীর পরিবারের দাবি, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।
