নিজস্ব প্রতিনিধি :
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা গত দুই মাসে ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। টিকাদান কর্মসূচি চলমান থাকলেও আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ।
এমন পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও রোগতত্ত্ববিদেরা হামের এই প্রাদুর্ভাবকে ‘স্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা’ বা মহামারি হিসেবে ঘোষণার দাবি তুলেছেন। তাঁরা মনে করছেন, এখনই সমন্বিত জরুরি পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, হাম পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, মহামারি ঘোষণার প্রয়োজন নেই কারণ ৯৬ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এসেছে। ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে নিশ্চিতভাবে ৬৫ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ৩৪৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অস্বাভাবিক। ।
একই সময়ে সারা দেশে প্রায় ৪৯ হাজার শিশু হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রায় ৩৫ হাজার শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দেশের ৬৪টি জেলার সবকটিতেই এখন এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের বর্তমান সংক্রমণ গত কয়েক বছরের গড় প্রবণতার চেয়ে অনেক বেশি এবং এটি মহামারির সংজ্ঞাগত শর্ত পূরণ করছে। মহামারি ঘোষণা করা হলে জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ ও টিকা সংগ্রহ এবং আপৎকালীন পরিকল্পনা কার্যকর করা সহজ হয়। ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ বলেন, প্রত্যাশার বাইরে কোনো রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটলে তাকে মহামারি বলা হয়। বর্তমান মৃত্যুহার ও বিস্তার বিবেচনা করলে এটি অবশ্যই একটি জাতীয় মহামারি। ।
আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন জানান, সরকার সাধারণত ভাবমূর্তি ও জনআতঙ্কের আশঙ্কায় মহামারি ঘোষণা এড়িয়ে যায়। তবে বাস্তবতা অস্বীকার করলে সংকট আড়াল হয় না, বরং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ২০১৮ সালের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ আইনে জরুরি পরিস্থিতির স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে জটিলতা হচ্ছে। সময়মতো সমন্বিত ব্যবস্থা নিলে এত বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব হতো বলে তাঁরা দাবি করেন।
