নিজস্ব প্রতিবেদক
কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি থেকেও নিজের এবং দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম। রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি থাকা এই শিক্ষার্থী সম্প্রতি বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একটি মানবিক চিঠি লিখে নিজেদের শিক্ষাজীবনে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন।
চিঠিতে জাহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি এবং তাঁর মতো হাজারো শিক্ষার্থী শুধুমাত্র রাজনৈতিক আদর্শগত কারণে আজ কারাগারে বন্দি। তিনি বলেন, “বিগত ৮ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে রাজবন্দি হিসেবে আমি দিন কাটাচ্ছি। আমাদের পরিবারের স্বপ্ন ছিল আমরা মেধা দিয়ে রাষ্ট্র বিনির্মাণে কাজ করব। কিন্তু আজ আমরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত।”
শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে জাহিদুল অভিযোগ করেন যে, ছাত্রলীগ সমর্থন করার কারণে বুয়েট, মেডিকেল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারাদেশের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে। অনেককে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না এবং ক্লাস-পরীক্ষাসহ নানাবিধ শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। একে তিনি ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর ‘বুদ্ধিজীবী হত্যার’ সাথে তুলনা করে বলেন, এটি মেধাবী প্রজন্মকে ধ্বংস করার একটি ষড়যন্ত্র।
চিঠিতে জাহিদুল ইসলাম আরও জানান, জেলবন্দি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ঋণ করে সন্তানদের পড়াশোনা করাচ্ছিলেন। কিন্তু একের পর এক মামলার কারণে পরিবারগুলো এখন আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, “মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, আপনি কোনো নির্দিষ্ট দলের নন, আপনি গোটা বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী। তাই রাজনৈতিক কারণে মৌলিক অধিকার শিক্ষা থেকে আমাদের বঞ্চিত করা অন্যায়।”
চিঠির শেষে জাহিদুল ইসলাম শিক্ষামন্ত্রীর মানবিক হৃদয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরতে চাই, একাডেমিক পড়াশোনা শেষ করতে চাই। দয়া করে শিক্ষাঙ্গনে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে আমাদের শিক্ষা জীবন শেষ করার সুযোগ করে দিন।”
উল্লেখ্য, জাহিদুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। বর্তমানে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাঁর এই চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলকে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁর সহপাঠী ও স্বজনরা।
