নিজস্ব প্রতিনিধি
শেখ মুজিবুর রহমানকে তার প্রাপ্য সম্মান ‘অবশ্যই দিতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন।
শনিবার সন্ধ্যায় জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম মাঠে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন স্বাধীনতা পদক ও সাহিত্য সম্মাননা পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, “অত্যন্ত যোগ্য ব্যক্তিদের ও যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে আমরা আজ স্বীকৃতি দিচ্ছি। এর জন্য আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।
“চট্টগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার জন্য নূর আহমদ চেয়ারম্যানের অবদান অসামান্য। কেন জানি এত বছর উনাকে আমরা স্বীকৃতি দিতে পারিনি। স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগঠক হিসেবে মরহুম জননেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানকে মরণোত্তর সম্মাননা দিচ্ছি।”
পদক ও সম্মাননা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা হয়েছে দাবি করে মেয়র বলেন, “প্রতিটি জায়গায়, এমনকি কথা সাহিত্যে জাহেদ মোতালেবকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমাকে একজন বলেছেন, উনি তো শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কবিতা লিখেছে।
“তো আমি বললাম, শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কবিতা লিখলেই যে পাবে না, এটা তো হয় না। উনি কথা সাহিত্যিক হিসেবে চট্টগ্রামে সমাদৃত। এটাকে তো আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না।”
তিনি বলেন, “এই জায়গায় আমরা মনে করেছি, যতদূর পেরেছি নিরপেক্ষতা বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। আমি হয়ত জাতীয়তাবাদী দল করতে পারি। বিএনপির জন্য অনেক সংগ্রাম আন্দোলন করেছি। কিন্তু এই জায়গায় প্রতিটি পদক আমরা চুলচেরা বিশ্লেষণ করেছি।
“আজকে এখানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা উঠছে। কেউ বলবে শাহাদাত সাহেব বোধহয় বিএনপি করে বলে বারবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম বলছেন। কিন্তু এটাও তো ঠিক চট্টগ্রাম থেকে ওই ডিক্লারেশনটা বেতারের মাধ্যমে উনার কণ্ঠেই শোনা গেছে। এটা তো আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না।”
শাহাদাত হোসেন বলেন, “ইতিহাস তো আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। ইতিহাসের পাতা থেকে সেক্টর কমান্ডারের নামগুলোকে তো আপনি মুছে ফেলতে পারবেন না। কোন সেক্টরে কে যুদ্ধ করেছে, এই ইতিহাস কি আপনি ভুলে যেতে পারবেন? না লিখে থাকতে পারবেন? সেখানেও তো জিয়াউর রহমানের নাম আসছে। কোথায় তাকে বাদ দিবেন?
“একজন মানুষকে রাজনীতিবিদ বা উনি একটা দলের প্রতিষ্ঠাতার বাইরে গিয়ে ওই জায়গায় তাকে সম্মান দিতে হবে। শেখ মুজিবুর রহমানকেও উনার জায়গায় উনাকে সম্মান দিতে হবে; অবশ্যই সম্মান দিতে হবে। আমি মনে করি, এই জায়গায় কোনো ইতিহাস কখনো পাল্টানো সম্ভব নয়।”
তিনি বলেন, “যার যার জায়গায়, সোহরাওয়ার্দীর জায়গায় সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের জায়গায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা ভাসানীর জায়গায় মওলানা ভাসানীকে উনার সম্মান দিতে হবে। এটাই হচ্ছে ইতিহাস।
“আমি আজ সরকারে আছি দেখে ইতিহাস পাল্টে ফেলব, এটা হতে পারে না। এ জায়গায় আমি মনে করি আমাদের রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান বদ্ধ পরিকর। কোনো ধরনের ইতিহাস উনি বিকৃতি করতে চান না।”
তিনি বলেন, “আমরা কোনো প্রপাগান্ডা দিয়ে ইতিহাস ঢেকে দিতে চাই না। আমরা চাই ইতিহাস ইতিহাসের গতিতে চলবে। ইতিহাস ইতিহাসবিদরাই রচিত করবে।”
অনুষ্ঠানে ‘সম্মানিত অতিথি’ ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান।
অন্যদের মধ্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস. এম. নছরুল কদির ও মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এবার স্বাধীনতা স্মারক সম্মাননার জন্য মোট আট ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়।
এ তালিকায় রয়েছে- স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদানের জন্য প্রয়াত রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ আলম নোমান (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মো. একরামুল করিম, শিক্ষায় চট্টগ্রাম পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নূর আহমদ চেয়ারম্যান (মরণোত্তর), চিকিৎসায় এম এ ফয়েজ এবং সাংবাদিকতায় দৈনিক পূর্বকোণের সম্পাদক ম. রমিজ উদ্দিন চৌধুরী।
এছাড়া ক্রীড়াক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, সমাজসেবায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, স্বাস্থ্যসেবায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল, সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস), সঙ্গীতে শিল্পী আবদুল মান্নান রানা এবং চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় অবদানের জন্য শিল্পী বুলবুল আকতার স্বাধীনতা পদক পেয়েছেন।
অন্যদিকে গীতিকবিতায় ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, শিশু সাহিত্যে সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার, প্রবন্ধ ও গবেষণায় হারুন রশীদ, কবিতায় শাহিদ হাসান ও কথাসাহিত্যে জাহেদ মোতালেবকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
