নিজস্ব প্রতিনিধি : সরকার কর্তৃক ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন’–এর আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরও সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের অন্তর্গত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ থানার কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ও আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সাগর আহম্মেদ শামীম স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে সংগঠনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়েছে।

ঘোষিত বিজ্ঞপ্তিতে পল্লবী থানার আগের কমিটি বিলুপ্ত করে আল ইত্তেহাদ রোহানকে সভাপতি এবং ফরিদ আবিদ চৌধুরী আবিরকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকি ছয়টি থানায় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য থানাগুলোর নেতৃত্ব নিম্নরূপ:
- রূপনগর থানা: অন্তর ইসলাম বাপ্পি (আহ্বায়ক)
- উত্তরা পশ্চিম থানা: শহিদুল ইসলাম রাকিব (আহ্বায়ক)
- ভাষানটেক থানা: মো. দীপু তালুকদার বন্যা (আহ্বায়ক)
- বিমানবন্দর থানা: মো. সাজ্জাদ হোসেন (আহ্বায়ক)
- কাফরুল থানা: ফয়সাল হোসেন দিপু (আহ্বায়ক)
- উত্তরখান থানা: মো. সাব্বির হোসেন (আহ্বায়ক)
নতুন এসব আহ্বায়ক কমিটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মহানগরের ২৪ জন নেতাকে সহ-সভাপতি পদে অন্তর্ভুক্ত করে উত্তর কমিটিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
একই দিনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে আগামী ১৭ মে’র মধ্যে দেশের সকল জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ইউনিটকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর এর পদ-পদবি ব্যবহার কিংবা প্রচার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে এই নতুন কমিটির নেতাদের ওপর এখন আইনি খড়গ নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন ইউনিট যেভাবে একযোগে পুনর্গঠিত হচ্ছে, তাকে বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধরপাকড় আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
